পূর্বধলায় ভিক্ষাবৃত্তি করা আমেনা খাতুন পেলেন মুদি দোকান
নাহিদ আলম, স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৬ রাত

ভিক্ষাবৃত্তির জীবন ছেড়ে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়েছেন নেত্রকোনার পূর্বধলার ৭২ বছর বয়সী আমেনা খাতুন।
উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উদ্যোগে ‘ভিক্ষুক পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থান’ কর্মসূচির আওতায় তাঁকে একটি মুদি দোকান করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দোকানের জন্য প্রায় অর্ধলক্ষ হাজার মালামালও দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার ৮ নং বিশকাকুনী ইউনিয়নের মধ্যপাড়া গ্রামে আমেনা খাতুনের নতুন দোকানটির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শফিকুল ইসলাম।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মধ্যপাড়া গ্রামের আমেনা খাতুন দুই ছেলে ও এক মেয়ের মা। তার এক ছেলে শারীরিক প্রতিবন্ধী। অন্য ছেলে খেতমজুরি করে কোনোরকমে সংসার চালান। স্বামী দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকায় সংসারের অভাব-অনটনের কারণে প্রায় চার বছর আগে ভিক্ষাবৃত্তিতে নামতে হয় আমেনা খাতুনকে। প্রায় এক বছর আগে স্বামী মারা গেলে তাঁর অসহায়ত্ব আরও বেড়ে যায়।
এ অবস্থায় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় আমেনা খাতুনকে ভিক্ষাবৃত্তি থেকে ফিরিয়ে এনে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় সমাজকল্যাণ পরিষদের অর্থায়নে তাঁর জন্য একটি মুদি দোকান তৈরি করা হয়। দোকানে বিক্রির জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যও সরবরাহ করা হয়েছে।
বুধবার দোকানটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের পর আমেনা খাতুনের হাতে দোকানের মালামাল তুলে দেওয়া হয়। এতে দীর্ঘদিনের ভিক্ষাবৃত্তির জীবন থেকে বেরিয়ে স্থায়ীভাবে আয়-রোজগারের সুযোগ তৈরি হলো তাঁর।
দোকান উদ্বোধনকালে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান, বিশকাকুনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম আল আমীনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।
ইউএনও মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ভিক্ষুক পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থান’ কর্মসূচির আওতায় আমেনা খাতুনকে দোকান করে দেওয়া হয়েছে। দোকানের প্রয়োজনীয় মালামালও সরবরাহ করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমেনা খাতুন দোকান থেকে আয় করে স্বাবলম্বী হবেন এবং ভিক্ষাবৃত্তি থেকে বেরিয়ে আসবেন। পর্যায়ক্রমে উপজেলার অন্য ভিক্ষুকদেরও বিকল্প কর্মসংস্থানের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, উপজেলার ভিক্ষাবৃত্তির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে তাঁদের বিকল্প কর্মসংস্থানের আওতায় আনা হবে।
নতুন দোকান পেয়ে আমেনা খাতুন উপজেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এখন থেকে দোকানের আয় দিয়ে নিজের ও পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর চেষ্টা করবেন।




_medium_1790769125.jpg)


