বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩
শিরোনাম

পূর্বধলায় করাত কলে শত্রুতার জেরে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ, বিচারের দাবিতে মানববন্ধন


  নাহিদ আলম, স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ :  ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৮ দুপুর

নেত্রকোনার পূর্বধলায় গভীর রাতে একটি করাত কলে আগুন দেওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন মিল মালিক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, শত্রুতার জেরে পেট্রোল ঢেলে করাত কলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন মিলের মালিক।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২ টায় উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের ঘাগড়া বাজারসংলগ্ন বিসমিল্লাহ করাত কলের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে এ সময় মিলের মালিক, শ্রমিক ও স্থানীয় এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।

মানববন্ধনে বক্তারা জানান, গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে প্রায় ৩০ বছর ধরে পরিচালিত বিসমিল্লাহ করাত কলে আগুন লাগে। আগুনে মিলের ঘর, যন্ত্রপাতি ও কাঠ পুড়ে যায়। এতে মিলের সঙ্গে জড়িত শ্রমিক, কাঠ ব্যবসায়ী ও ভ্যানচালকসহ শতাধিক মানুষের কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মিলের মালিক শফিক মিয়া ওরফে শফিক বেপারী বলেন, রাত দেড়টার দিকে ঘাগড়া বাজারের পাহারাদার মইন উদ্দিন তাকে ফোন করে মিলে আগুন লাগার খবর দেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি মিলের ভেতরে আগুন জ্বলতে দেখেন। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

শফিক মিয়া বলেন, আগুনে মিলের ঘর, একটি সেলো মেশিন, করাত, বেল্ট, শান পাথর ও কাঠ পুড়ে গেছে। এ ছাড়া মিলের মূল মেশিনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে তার প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

তিনি বলেন, যারা এমন ন্যক্কারজনক কাজ করেছে, তদন্ত করে তাদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হোক।

মিল মালিকের ছেলে শামীম মিয়া জানান, রাতে আগুন নেভানোর পর মিল থেকে কিছুটা দূরে ১০ লিটার ধারণক্ষমতার একটি ট্যাংকি পড়ে থাকতে দেখা যায়। এতে কিছু পেট্রোলও ছিল। পুলিশ ওই ট্যাংকি ও অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করেছে। তার অভিযোগ, শত্রুতার জেরে কেউ পেট্রোল ঢেলে মিলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। এ ঘটনায় প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তিনি ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

মানববন্ধনে ঘাগড়া দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মোতালিব বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হলে শুধু মালিক নন, এর সঙ্গে জড়িত শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও পরিবহনশ্রমিকেরাও ক্ষতিগ্রস্ত হন। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

ঘাগড়া বাজারের ইজারাদার আবু হানিফ মিয়া বলেন, করাত কলটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেখানে কাজ করা অনেক দরিদ্র মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

ঘাগড়া বাজার বণিক সমিতির সভাপতি শামছুল হক আকন্দ হীরা বলেন, অগ্নিকাণ্ডে মিলের মালিকের পাশাপাশি ভ্যানচালক ও কাঠ ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।

মিলের ভ্যানচালক ইলিয়াস আলী বলেন, মিলটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তিনি সেখানে কাজ করছেন। আগুনের ঘটনায় তাঁদের অনেকেই কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তিনি নিজেও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত