সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩
শিরোনাম

শেরপুরে প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা স্বামীর ভাতার দাবিতে দ্বিতীয় স্ত্রী আদালতে


  রফিক মজিদ, শেরপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ :  ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪০ রাত

শেরপুরের নকলায় এক বীর মুক্তিযোদ্ধার সম্মানী ভাতার অংশ ও ওয়ারিশ সনদ নিয়ে পারিবারিক বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। 

এ ঘটনায় নিজের প্রাপ্য অংশ পাওয়ার দাবি জানিয়ে শেরপুরের আদালতে সাকসেশন মামলা করেছেন ওই মুক্তিযোদ্ধার দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. হামিদা বেগম।

আদালতে দাখিল করা আবেদনপত্রের তথ্য অনুযায়ী, মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইফুল ইসলাম নকলা উপজেলার বিবিরচর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। আবেদনকারীর দাবি, ১৯৯৭ সালের ৯ জুলাই রেজিস্ট্রি কাবিননামার মাধ্যমে সাইফুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের ঘরে ২০০২ সালের ১ জানুয়ারি একটি পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। একই বছরের ১২ এপ্রিল সাইফুল ইসলাম মারা যান বলে আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

হামিদা বেগম অভিযোগ করে বলেন, স্বামীর মৃত্যুর পর তাঁকে ও তাঁর নবজাতক সন্তানকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে জীবিকা নির্বাহের জন্য তাঁকে ঢাকার পুরান পল্টন এলাকায় বিভিন্ন বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতে হয়। পরবর্তীতে তিনি শেরপুরে এসে বসবাস শুরু করেন।

তিনি আরো বলেন, মৃত মুক্তিযোদ্ধার সম্মানী ভাতা মাসে ২০ হাজার টাকা। ভাতার অর্থের একটি অংশ পাওয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন। ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে তাঁর ব্যাংক হিসাবে ১০ হাজার টাকা জমা হয় এবং পরবর্তী সময়ে প্রথম স্ত্রীর আপত্তির কারণে ভাতার অর্থ উত্তোলন করতে পারছেন না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। 

তিনি আরো বলেন, মৃত মুক্তিযোদ্ধার সম্মানী ভাতার অর্ধেক, অর্থাৎ মাসে ১০ হাজার টাকা তাঁর প্রাপ্য। এ অর্থ বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য প্রথম স্ত্রীকে অনুরোধ করা হলেও তা দেওয়া হয়নি। 

নকলার টালকী ইউনিয়নের সাবেক মরহুম চেয়ারম্যান বদিউজ্জামান বদি একটি ওয়ারিশান সনদে ২য় স্ত্রী মোছা. হামিদা বেগমের নাম উল্লেখ না করলেও সন্তান মো: সোহাগ মিয়া নামসহ প্রথম পক্ষের স্ত্রী-সন্তানসহ ৭জনের নামের সনদ দেয়। পরবর্তীতে ২০২৩ সনের ২০ জুন বর্তমান চেয়ারম্যান মোজাফ্ফর মহিউদ্দিন বুলবুল ১ম স্ত্রী মো: মাজেদা খাতুনের ছেলে-মেয়েসহ ৬ জন এবং ২য় স্ত্রী মোছা: হামিদা বেগম ও তার ছেলে মো: সোহাগ মিয়াসহ মোট ৮জনের নাম উল্লেখ করে ওয়ারিশান সনদ দেন। 

মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইফুল ইসলামের প্রথম পক্ষের বড় ছেলে মো. সোহেল রানা বলেন, হামিদা বেগম আমার বাবার ২য় স্ত্রী (সৎ মা) ও সোহাগ মিয়া সৎ ভাই। আমরা যেমন ওয়ারিশিয়ান তেমন তারাও ওয়ারিশিয়ান। আমরা জমিজমা ভাগের সময় সোহাগের অংশ রেখেই ভাগ করেছি।

মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইফুল ইসলামের প্রথম পক্ষের স্ত্রী মোছা: মাজেদা খাতুন বলেন, আমার স্বামী মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইফুল ইসলাম গানবাজনা পছন্দ করত। তার একটি গানের দল ছিল। সেই সুবাধে ৩টি বিয়ে করেছিল। আমি প্রথম বউ। ২য় ও ৩য় বউ আমার স্বামীকে তালাক দিয়ে চলে যায়। হামিদা বেগমও আমাদের বাড়িতে থেকে আমার স্বামীর সাথে গানের দলে কাজ করত। আমার স্বামী তাকে বিয়ে করেনি। মুক্তিযোদ্ধার সরকারি ভাতা টাকা আমার বড় ছেলেকে না দেওয়ার ক্ষোভে বড় ছেলের সাথে যোগসাজোসে সেই ভাতার টাকার অংশ পাওয়ার লোভে হামিদা বেগম ভূয়া কাবিননামা ও ওয়ারিশান সনদ বানিয়ে আদালতে আমাদের নামে মামলা করেছে।

নকলার টালকি ইউপি চেয়ারম্যান মোজাফ্ফর মহিউদ্দিন বুলবুল বলেন, হামিদা বেগম মুক্তিযোদ্ধা সাইফুলের ২য় স্ত্রী। তার একটি সন্তানও রয়েছে। এই তথ্য আমি অনেক আগে থেকেই জানি। অন্যের বাসায় কাজ করে এই মহিলা সংসার চালায়। সমস্ত তথ্য যাচাই বাছাই করেই আমি ওয়ারিশান সনদ তাদের দিয়েছি। 

নকলা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহব্বায়ক আলহাজ্ব মো. খোরশেদুর রহমান  বলেন, মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইফুল ইসলাম আমার প্রতিবেশী। হামিদা বেগম তার ২য় স্ত্রী এবং সেই পক্ষের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। আমিও চাই অসহায় এই পরিবারটি তাদের অধিকার ফিরে পাক।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত