পূর্বধলায় অ্যাডহক কমিটির সভাপতিকে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ, দায় অস্বীকার প্রতিপক্ষের
ইমতিয়াজ আহামেদ সজিব, বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:১৫ বিকাল

নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলায় আগিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতিকে জোর করে পদত্যাগ করানোর অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সেলিম উদ্দীনের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে পূর্বধলা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বিদ্যালয়ের নতুন মনোনীত অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও হুগলা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আমিনুল ইসলাম। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সেলিম উদ্দীন।
অভিযোগপত্রের বিবরণ এবং মুঠোফোনে আমিনুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ময়মনসিংহ মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড তাঁকে আগিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে মনোনীত করে। গত ১ নভেম্বর তাঁর মনোনয়নের আদেশ প্রকাশিত হয়।
অভিযোগপত্রে আমিনুল ইসলাম উল্লেখ করেছেন, ওই পদে সেলিম উদ্দীনের ছেলে মনোনীত না হওয়ায় সেলিম উদ্দীন ক্ষুব্ধ হন। এর প্রেক্ষিতে ঘটনার দিন তাঁকে আগিয়া ইউনিয়নের কুমারখালী বাজারে সেলিম উদ্দীনের রাইস মিলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সন্ধ্যা ৬টার দিকে চাপ প্রয়োগ করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানো হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন আগিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. বদরুজ্জামান মিন্টু, পূর্বধলা জগৎমণি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নূরে আলম সিদ্দিকী, দেওটুকুন আব্দুল গণি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিউটন চন্দ্র সরকার এবং আগিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. আশিক।
অভিযোগ অস্বীকার করে সেলিম উদ্দীন বলেন, আমিনুল ইসলামকে চাপ প্রয়োগ করে পদত্যাগ করানোর কোনো ঘটনা ঘটেনি। তাঁর দাবি, আমিনুল ইসলাম অন্য শিক্ষকদের সঙ্গে কুমারখালী বাজারসংলগ্ন তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আসেন, স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করেন।
এ বিষয়ে আগিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. বদরুজ্জামান মিন্টু বলেন, অ্যাডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচনের জন্য বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আমিনুল ইসলামসহ তিনজনের নামের একটি প্যানেল তাঁর স্বাক্ষরেই পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য পাঠানো হয়েছিল। যেহেতু তিনিই প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তাই নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে পদত্যাগের জন্য তাঁর পক্ষ থেকে চাপ প্রয়োগের কথা অযৌক্তিক।
পূর্বধলা জগৎমণি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষরের সময় তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তবে বিষয়টি প্রতিবেশী ভিন্ন একটি স্কুলের অ্যাডহক কমিটি গঠনের হওয়ায় এতে তার জড়িত থাকার ঘটনার অভিযোগ যুক্তিসংগত নয়। তিনি আরও বলেন, সেখানে চাপ প্রয়োগ করে পদত্যাগ করানোর কোনো ঘটনা ঘটেনি; আমিনুল ইসলাম স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন।
দেওটুকুন আব্দুল গণি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিউটন চন্দ্র সরকার বলেন, ঘটনার সময় হাসিখুশি পরিবেশেই আমিনুল ইসলাম পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করেন। কিন্তু পরবর্তীতে আমিনুল ইসলামের দায়েরকৃত অভিযোগপত্রে চাপ প্রয়োগে তার সম্পৃক্ততার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।
এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ জানতে চাইলে পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “এ ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”




_medium_1786423980.jpg)

