আজকের আরবান সম্পাদকের ধর্মভাই খন্দকার রেজাউল করিম লিটন চলে গেলেন না ফেরার দেশে
সুহাদা মেহজাবিন
প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৬, ১২:২৬ দুপুর

মানবিকতা, সততা ও বন্ধুত্বের এক উজ্জ্বল প্রতীক খন্দকার রেজাউল করিম লিটন আর আমাদের মাঝে নেই। গত বুধবার (১০ জুন) রাত আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিটে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫২ বছর। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
জানা গেছে, কিছুদিন আগে তাঁর বোনমেরুর ক্যান্সার ধরা পড়ে। এরপর থেকেই তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং নির্ধারিত সময় অন্তর কেমোথেরাপি গ্রহণ করছিলেন। চিকিৎসার ফলে তাঁর শারীরিক অবস্থার আগের তুলনায় কিছুটা উন্নতিও হয়েছিল। পরিবার ও স্বজনদের মাঝেও ফিরতে শুরু করেছিল আশার আলো। কিন্তু সেই আশাকে স্তব্ধ করে দিয়ে হঠাৎ করেই তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। তাঁর আকস্মিক মৃত্যু প্রিয়জনদের হৃদয়ে অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি করেছে।
খন্দকার রেজাউল করিম লিটন ১৯৯৬ সালে উন্নয়ন সংস্থা ‘আশা’-তে চাকরি জীবনের সূচনা করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে তিনি বর্তমানে সিনিয়র রিজিওনাল ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। কর্মজীবনের প্রতিটি ধাপে তিনি সহকর্মীদের আস্থা, সম্মান ও ভালোবাসা অর্জন করেছিলেন।
আজকের আরবানের প্রকাশক ও সম্পাদক সৈয়দ আরিফুজ্জামানের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল আত্মার বন্ধনে গাঁথা। চাকরিজীবনের শুরুতে আশা অফিসে পরিচয়ের সূত্র ধরে গড়ে ওঠে এক গভীর আত্মিক সম্পর্ক। রেজাউল করিম লিটন পরম শ্রদ্ধা, আবেগ আর ভালোবাসায় সৈয়দ আরিফুজ্জামানকে “দাদাভাই” বলে সম্বোধন করতেন। সময়ের পরিক্রমায় সেই সম্পর্ক শুধু কেবলমাত্র কোন একটি সাধারণ গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি; তিনি হয়ে উঠেছিলেন পরিবারের একজন আপন সদস্য, ছোট ভাইয়ের মতো। অন্যদিকে, সৈয়দ আরিফুজ্জামানও তাঁকে স্নেহ, ভালোবাসা ও অভিভাবকসুলভ মমতায় আগলে রেখেছিলেন।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে সৈয়দ আরিফুজ্জামান বলেন, “রেজাউল শুধু একজন বন্ধু বা সহকর্মী ছিল না, সে ছিল আমাদের পরিবারের একজন। তার আন্তরিকতা, মমতা ও ভালোবাসা এমন ছিল যে কখনো মনে হয়নি সে বাইরের কেউ। বরং মনে হতো, আগের কোনো জন্মের রক্তের সম্পর্ক ছিল আমাদের।”
তিনি আরও বলেন, রেজাউলের পরিবারের প্রতিটি সদস্যের সঙ্গেও তাঁদের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত আন্তরিক ও হৃদ্যতাপূর্ণ, যা সময়ের সঙ্গে দুই পরিবারের মধ্যে আত্মীয়তার এক গভীর বন্ধনে রূপ নেয়।
খন্দকার রেজাউল করিম লিটনের গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জের মাধবপুরে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় পরিবার-পরিজন, এলাকাবাসী, ৮৮ এসএসসি ব্যাচের অসংখ্য বন্ধু এবং চাকরিজীবনের সহকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত সবার স্মৃতিচারণ ও আলোচনায় বারবার উঠে আসে তাঁর মানবিকতা, বন্ধুবৎসল মনোভাব ও সদালাপী চরিত্রের কথা।
স্থানীয় মসজিদের ইমাম বলেন, “তিনি একজন সৎ, নিরহংকারী ও নির্বিবাদী মানুষ ছিলেন।” উল্লেখ্য, তিনি স্থানীয় মসজিদের পরিচালনা পরিষদের কার্যকরী সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন। এলাকাবাসীর কাছে তিনি ছিলেন একজন দায়িত্বশীল, বিনয়ী ও মানবিক ব্যক্তিত্ব।
মৃত্যুকালে তিনি মা, স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়ে, এক বোনসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু, সহকর্মী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর বিদায়ে গভীরভাবে শোকাহত আজকের আরবান পরিবার।
গভীর শোক প্রকাশ করে আজকের আরবানের প্রকাশক ও সম্পাদক সৈয়দ আরিফুজ্জামান বলেন, “রেজাউলের শূন্যতা কখনও পূরণ হওয়ার নয়। তার স্মৃতি, ভালোবাসা ও আন্তরিকতা আমাদের হৃদয়ে আজীবন অমলিন হয়ে থাকবে।” বাস্তবিক পক্ষেই রেজাউল সত্যিকার অর্থে আমাদের "ধর্মভাই"। সে সকল ক্ষেত্রে আমাদের পরিবারে আরো একজন সহোদর ভাই ভূমিকায় অবতীর্ণ হত।
আজকের আরবান পরিবারের পক্ষ থেকে মরহুম খন্দকার রেজাউল করিম লিটনের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হচ্ছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হচ্ছে।




