মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম

জামালপুরের ইসলামপুরে শত্রুতার জেরে কুয়েত প্রবাসীকে নৃশংস হত্যা, ফেসবুকে স্ট্যাটাস ‘শত্রু খতম


  মো: খোরশেদ আলম, স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ :  ০৩ আগস্ট ২০২৬, ১২:১৪ দুপুর

পূর্ব শত্রুতার জের ধরে কৌশলে কুয়েতে নিয়ে মামা-ভাগ্নে মিলে জামর আলী শেখ (৪২) নামের এক প্রবাসীকে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
 
হত্যার পর ঘাতক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে “আলহামদুলিল্লাহ শত্রু খতম” লিখে স্ট্যাটাস দেয়। ধার-দেনা করে কুয়েত যাওয়ার দুই বছরের মাথায় এই হত্যাকাণ্ডের শিকার হন তিনি। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
 
​নিহত জামর আলী শেখ জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার চরগোয়ালিনী ইউনিয়নের কান্দারচর এলাকার মৃত মগবেল শেখের ছেলে। তিনি ৫ সন্তানের জনক।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত প্রধান ব্যক্তিরা হলেন—নিহতের প্রতিবেশী চরগোয়ালিনী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার মো: সিরাজ আলী (যিনি হত্যার হুকুমদাতা বলে অভিযোগ রয়েছে), তার পুত্র কুয়েত প্রবাসী সেলিম মিয়া (৩৮) এবং সেলিমের ভাগ্নে সোহাগ (২৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত জামর আলী ও সেলিমের মধ্যে একসময় বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকলেও পরবর্তীতে তাদের মধ্যে পারিবারিক দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। জামর আলীর বিদেশে যাওয়ার আর্থিক সামর্থ্য ও অনিহা থাকলেও সেলিমের পরিবার বিভিন্ন মাধ্যম থেকে ধার-দেনা করিয়ে তাকে কুয়েত যেতে বাধ্য করে।
 
​জানা গেছে, নিহত জামর আলী কুয়েতের আল রাজী হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। অভিযুক্ত সেলিম ও তার ভাগ্নে সোহাগও একই স্থানে কর্মরত ছিলেন। কুয়েতে যাওয়ার পর থেকেই জামর আলীর ওপর শারীরিক নির্যাতন ও বিভিন্ন সময় হুমকি দেওয়া হতো।
তদন্তে জানা যায়, গত ৩ জুলাই সেলিমের ফেসবুক আইডি থেকে পোস্ট করা হয় যে, তাদের বিষয় নিয়ে পরিবারের কাছে কোনো নালিশ করা হলে বা আইনের আশ্রয় নেওয়া হলে তাকে খুন করা হবে। এর ঠিক চার দিন পর গত ৭ জুলাই সেলিমের পার্সোনাল আইডি (‘মুসাফির অচিন পথিক’) থেকে পুনরায় পোস্ট করা হয়—“আলহামদুলিল্লাহ শত্রু খতম”।
 
​গত ৭ জুলাই কর্মশেষে দুপুরের খাবারের জন্য রুমে গিয়েছিলেন জামর আলী। ওই সময় সেলিম ও তার ভাগ্নে সোহাগ ধারালো চাকু ও ছুরি দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপুর্যুপুরি আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
কুয়েত থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জামর আলীর মরদেহ পৌঁছানোর পর অ্যাম্বুলেন্সযোগে তা গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। পরে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
 
​নিহতের ৩ মেয়ে ও ২ শিশু ছেলের আর্তনাদে এলাকার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। বাবা হারা শিশুসহ শোকার্ত স্বজন ও এলাকাবাসী এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে ইসলামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আমরা নিহতের বাড়িতে গিয়েছিলাম। তদন্ত সাপেক্ষে এ ঘটনায় আইনগত যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
 
 
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত