শেরপুর সীমান্তে আবারো পাহাড়ি ঢলে নির্মাণ চল প্লাবিত
রফিক মজিদ, শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২১ মে ২০২৬, ০৭:৫১ বিকাল

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় আবারো পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টির প্রভাবে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে বন্যার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। ইতিমধ্যে শ্রীবরদী উপজেলার পাহাড়ি সুরেশ্বরী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে দুপুরিয়া-মাদারপুর সড়কের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
জানা গেছে, গত ১৩ মে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার বিভিন্ন উপজেলার পাহাড়ে নদীর পানি বৃদ্ধি হয়ে এবং নদীর বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্রামিত হয়েছিল। এর পরের দিন থেকেই পানি নেমে যায় কিন্তু ২১ মে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে জেলার ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলার মহরশি ও সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে। জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। এবং নদীর তীরবর্তী মানুষগুলো মাঠে বন্যা আতঙ্ক বিরাজ করছে।
বিশেষ করে মহারশি নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার অনেক নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। নদীর তীব্র স্রোতে বিভিন্ন স্থানে ভাঙনের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে ২১ মে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে মহারশি নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। পরে সেই পানি আশপাশের গ্রাম ও ফসলি জমিতে ঢুকে পড়ে। অনেক এলাকায় বাড়িঘরের আঙিনা পর্যন্ত পানি উঠে গেছে।
অন্যদিকে সোমেশ্বরী নদীর ভাঙন নতুন করে বন্যা আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে আয়নাপুর ও কারাগাঁও এলাকায়। নদীর তীব্র স্রোতে আয়নাপুর ও কারাগাঁও এলাকার পাশ দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে এখন দুপুরিয়া-মাদারপুর সড়ক অতিক্রম করছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক স্থানে রাস্তার উপর দিয়ে প্রবল স্রোতে পানি প্রবাহিত হওয়ায় মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।
এদিকে নদীর পানি বৃদ্ধি ও ভাঙনের ফলে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কৃষকের কষ্টে ফলানো বোরো ধান, পাট, শাকসবজি ও বিভিন্ন মৌসুমি ফসল পানিতে ডুবে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। অনেক কৃষক এখনো জমি থেকে ধান ঘরে তুলতে পারেননি। হঠাৎ পানির তোড়ে চোখের সামনে তাদের বছরের পরিশ্রম নষ্ট হয়ে গেছে।
কারাগাঁও এলাকার কৃষক মুহিদুল ইসলাম বলেন, “একটু বৃষ্টি হলেই প্রতি বছর আমাদের কারাগাঁও এলাকায় রাস্তার উপর দিয়ে পানি চলে আসে। পাশেই নদী থাকায় পানির স্রোত বাড়লেই বিভিন্ন জায়গায় ভাঙন শুরু হয়। এতে আমাদের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি তলিয়ে যায়। এখনো অনেক কৃষক ধান ঘরে তুলতে পারিনি। চোখের সামনে সব পানির নিচে চলে গেলো।”
স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে একই ধরনের দুর্ভোগের শিকার হলেও নদীভাঙন রোধে স্থায়ী কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। মহারশি ও সোমেশ্বরী নদীর তীরবর্তী এলাকার মানুষ বছরের পর বছর আতঙ্ক নিয়ে বসবাস করছে। নদীর ভাঙনে অনেক পরিবার ইতোমধ্যে বসতভিটা হারিয়েছে। আবার অনেকের আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গ্রামীণ রাস্তা ও বাজার এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। শিশু ও বৃদ্ধদের চলাচলে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত নদীভাঙন রোধে টেকসই বাঁধ নির্মাণ, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা সংরক্ষণ, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার এবং কৃষকদের জন্য জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করা হোক। অন্যথায় আয়নাপুর, কারাগাঁওসহ ঝিনাইগাতীর বিস্তীর্ণ এলাকার কৃষি অর্থনীতি ও জনজীবন ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন যুগান্তরকে বলেন, বিকেলে পানি বৃদ্ধির খবর পেয়ে ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করে খবর পেয়েছি সন্ধ্যার পর থেকে পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে। তারপরেও তাকে আমি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য। এছাড়া যদি ঢলের পানিতে ঘরবাড়ি চলে যায় সে ক্ষেত্রে আমাদের শুকনো খাবারের প্রস্তুতি রয়েছে।







