প্রেমের প্রস্তাবের কারণে মহব্বত খুন, তিন বছর পর রহস্য উদ্ঘাটন
মো: মহিউদ্দিন আহাম্মেদ
প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১১:০৩ দুপুর

হবিগঞ্জের মাধবপুরে প্রেমের প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে মো. মহব্বত আলীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক নারী, তার স্বামী ও দুই দেবরের বিরুদ্ধে। হত্যাকাণ্ডের প্রায় তিন বছর পর চাঞ্চল্যকর এ ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় এক নারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি বাড়ির সেফটি ট্যাংক থেকে নিহতের মরদেহের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—জাহানারা বেগম (৩৪), তার স্বামী মো. শাহ আলম (৪২), শাহ আলমের ছোট ভাই মো. ইয়াছিন মিয়া (২৪) ও মো. জয়নার মিয়া (২৪)।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ জানায়, ২০২৩ সালের ৩০ জুলাই মাধবপুর উপজেলায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ১৮ আগস্ট মাধবপুর থানায় একটি হত্যা মামলা হয়। প্রথমে থানা পুলিশ মামলাটি তদন্ত করলেও পরবর্তী সময়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে হবিগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই (নিরস্ত্র) মো. সাইফুল ইসলামকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদের নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে তদন্ত কর্মকর্তা প্রযুক্তির সহায়তা এবং একটি অডিও রেকর্ডের সূত্র ধরে তদন্ত চালিয়ে যান। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৯ অক্টোবর মাধবপুর পৌর এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাহানারা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে স্বামী শাহ আলম এবং তার দুই দেবর ইয়াছিন মিয়া ও জয়নার মিয়াকে মাধবপুরের মনতলা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে নিহত মহব্বত আলী জাহানারা বেগমকে অনৈতিক প্রেমের প্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হওয়ায় জাহানারা বেগমের স্বামী ও সন্তানকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেন মহব্বত আলী। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে জাহানারা বেগম, তার স্বামী ও দেবররা মহব্বত আলীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, তারা পরস্পরের যোগসাজশে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে মরদেহ গুম করেন।
পরে গ্রেপ্তার শাহ আলমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাধবপুরের রামনগর এলাকায় প্রবাসী রুনা বেগমের বাড়ির সেফটি ট্যাংক থেকে মহব্বত আলীর মরদেহের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার জাহানারা বেগম ও শাহ আলম আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের ভূমিকা শনাক্ত ও হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।







