শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩
শিরোনাম

আইইডিসিআর পরিচালকের ওপর হামলার অভিযোগ, ডা. জাহিদ হাসানের শাস্তি দাবি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের


  আরবান ডেস্ক

প্রকাশ :  ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৮ রাত

রাজধানীর মহাখালীতে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকিরের ওপর হামলা, শারীরিক নিগ্রহ ও অসদাচরণের অভিযোগে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্বাস্থ্য খাতের একাধিক কর্মকর্তা। এ ঘটনায় অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. জাহিদ হাসানের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে উপযুক্ত প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

অভিযুক্ত ডা. জাহিদ হাসান চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সহ-আইনবিষয়ক সম্পাদক। এ ঘটনার পর তাঁর প্রাথমিক সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিত করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে সংগঠনটি।

ইনস্টিটিউট অব পাবলিক হেলথের (আইপিএইচ) পরিচালক ডা. সৈয়দ আবু আহম্মদ শাফী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ঘটনাটিকে স্বাস্থ্য বিভাগের ইতিহাসে বিরল ও নিন্দনীয় বলে উল্লেখ করেছেন।

তিনি লেখেন, সরকারি দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় আইইডিসিআরের পরিচালকের কার্যালয়ে প্রবেশ করে তাঁকে শারীরিকভাবে আঘাত ও অপদস্থ করার অভিযোগ কোনোভাবেই ক্ষমার যোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হতবাক করে এবং তাঁদের মধ্যে হতাশা তৈরি করে।

ডা. শাফী আরও বলেন, এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে কারও দলীয় পরিচয় বিবেচনায় নেওয়ার সুযোগ নেই। দলীয় পরিচয়ের কারণে কাউকে ছাড় দেওয়া হলে তা প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও জবাবদিহির জন্য নেতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করবে। তিনি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহাপরিচালক ও প্রশাসনের যথাযথ পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেন।

অন্যদিকে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক বেনজীর আহমেদও এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে তিনি সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় আইইডিসিআরের পরিচালকের ওপর হামলার অভিযোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

বেনজীর আহমেদ বলেন, এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এ এস এম রিয়াজ উদ্দিন হায়দারও। তিনি ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ এবং তাঁদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

প্রতিবাদকারীরা বলছেন, চিকিৎসা পেশা শুধু একটি পরিচয় নয়; এটি মানবিকতা, শিষ্টাচার ও নৈতিক দায়িত্বের প্রতীক। এ পেশার সঙ্গে যুক্ত কারও বিরুদ্ধে কর্মক্ষেত্রে সহিংসতা বা অসদাচরণের অভিযোগ উঠলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

তাঁদের মতে, ডা. জাহিদ হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি ড্যাবের সাংগঠনিক পদ ও সদস্যপদের বিষয়ে সংগঠনের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। শুধু সাময়িক স্থগিতাদেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

প্রতিবাদকারীরা আরও বলেন, কোনো সাংগঠনিক বা রাজনৈতিক পরিচয় যেন জবাবদিহির পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা, কর্মকর্তাদের সম্মান, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা ও পেশাগত শৃঙ্খলার প্রশ্নে আপস করার সুযোগ নেই।

আইইডিসিআরের মর্যাদা ও পরিচালকের সম্মান রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে তাঁরা প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

তাঁদের প্রত্যাশা, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং স্বাস্থ্য খাতে নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত