শেরপুরে অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ
রফিক মজিদ, শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫২ দুপুর

শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার পাইকুরা এআরপি উচ্চ বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক মোঃ মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ এনে স্থানীয় এলাকাবাসীর পক্ষে মোঃ মনিরুজ্জামান তুষার (তুহিন) মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহা পরিচালক বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন।
৭ সেপ্টেম্বর সোমবার শেরপুর জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে এই অভিযোগ দাখিল করেন।
অভিযোগে বলা হয়, প্রধান শিক্ষক মতিউর রহমান জাল-জলিয়াতির মাধ্যমে অবৈধভাবে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে চাকরিতে যোগদান করেন ১৯৮৭ সালে। এরপর ২০০০ সাল পর্যন্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে থাকা অবস্থায় ২০৯৭ সালে তৎকালীন প্রধান শিক্ষক মোঃ মোজাফফর আলী মৃত্য জনিত কারণে ২০২১ সালে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়।
ওই সময় আবারও জাল জালিয়াতের মাধ্যমে গোপনে স্কুল কমিটির সহায়তায় পাঁচ জন সিনিয়র শিক্ষককে ডিঙিয়ে তিনি প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ পান। ইতিপূর্বে ১৯৮৭ সালে একই কায়দায় গোপন নিয়োগের মাধ্যমে মাত্র দুই জন শিক্ষকের আবেদনের প্রেক্ষিতে তার নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়। যদিও কমপক্ষে তিন জন শিক্ষকের আবেদন থাকার কথা থাকলেও মাত্র দুইজন শিক্ষকের আবেদনের মধ্য থেকে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে ওই সময় তিনি সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ পান।
সে কারণে তিনি বর্তমানে প্রধান শিক্ষক হয়ে দীর্ঘদিন যাবত স্কুলের নিজস্ব জায়গায় মার্কেটের ভাড়া সহ স্কুলের বিভিন্ন আয়-ব্যায়ের হিসাব তিনি এককভাবেই করছেন। তাই তার বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা এবং তার পূর্বের সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের তদন্ত চেয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহা পরিচালক এর কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন।
এই অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মতিউর রহমান অভিযোগকারীর সকল অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, আমার কাছে আমারই ছাত্র তুষার প্রথমে এসেছিল তাকে স্কুল কমিটির সভাপতি নির্বাচন করার জন্য। কিন্তু এটা আমার পক্ষে সম্ভব নয় বিধায় তাকে জানিয়ে দেই এবং এমপি মহোদয়ের ডিও লেটার নিয়ে আসার অনুরোধ করি । এরপর থেকেই তিনি আমার বিরুদ্ধে লেগেছেন এবং মিথ্যে অভিযোগ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযোগকারী মোঃ মনিরুজ্জামান তুষার (তুহিন) বলেন, প্রধান শিক্ষকের অভিযোগ সত্য নয়। স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ এবং সচেতন মহল সম্প্রীতি স্কুল পরিচালনায় গতি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একটি অডহক কমিটির প্রস্তাবনা প্রেরণের জন্য বলা হয়। কিন্তু তার অবসরের মাত্র তিন চার মাস থাকায় তিনি তা না করে তার সকল অপকর্ম ও অনিয়ম এর হাত থেকে বাঁচতে এডহক কমিটির প্রস্তাবনা না পাঠিয়ে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ রেজুয়ান বলেন, অভিযোগ পেয়েছি এবং মহাপরিচালক বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে। অভিযোগটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দেখার বিষয়।





_medium_1788933337.jpg)

