গাইবান্ধায় জমি বিরোধের জেরে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানীর অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন
আসাদুজ্জামান রুবেল
প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৫ দুপুর

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে একাধিক মামলায় হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। প্রতিপক্ষের দায়ের করা এসব মামলা ‘মিথ্যা ও হয়রানিমূলক’ দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কামরুল হাসান নামে এক ব্যক্তি।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সাদুল্লাপুর উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের মরুয়াদহ এলাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে কামরুল হাসান জানান, ছাবেদ আলীর পৈতৃক সম্পত্তির অংশ থেকে তার প্রথম স্ত্রী রমিছা বেগমকে ১৯৮৮ সালের ১ অক্টোবর দলিলের মাধ্যমে ৭১ শতক জমি হেবাবিল এওয়াজ হিসেবে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে রমিছা বেগম দীর্ঘদিন ওই জমি ভোগদখলে রাখেন।
তিনি বলেন, ২০০০ সালের ৯ সেপ্টেম্বর রমিছা বেগম তার মেয়ে মাকছুদা বেগমকে হেবাবিল এওয়াজের মাধ্যমে ৪১ শতক জমি দেন। পরে মাকছুদা বেগম ওই জমি খারিজ করে ভোগদখলে ছিলেন।
কামরুল হাসানের দাবি, পরবর্তীতে অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর মাকছুদা বেগম স্থানীয় সাদেকুল ইসলাম ও কাজিরন বেগমের কাছে সাব-কবলা দলিলের মাধ্যমে ১৭ দশমিক ৫০ শতক জমি বিক্রি করেন। ক্রেতারা জমিটি খারিজ করে সেখানে সীমানাপ্রাচীর, বাড়িঘর ও অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণ করে বসবাস করে আসছেন বলেও তিনি জানান।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, একই দাগের জমি নিয়ে এর আগে ছাবেদ আলী ১৯৯৫ সালে আজিজার রহমানের কাছে ২৮ শতক এবং ১৯৯৬ সালে আনিছার রহমানের কাছে ৮ শতক জমি বিক্রি করেন। পরবর্তীতে ১৯৯০ সালের এসএ রেকর্ডে ভুলবশত এক পক্ষের ভোগদখলীয় জমি অন্য পক্ষের নামে রেকর্ডভুক্ত হয়েছে বলে দাবি করেন কামরুল হাসান।
তিনি জানান, ওই রেকর্ড সংশোধন নিয়ে বর্তমানে আদালতে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। এর মধ্যে রেকর্ড সংশোধনের দাবিতে মাকছুদা বেগমের পক্ষ থেকে ৫৩/২৩ নম্বর ঘোষণার মামলা এবং আনিছার রহমানের ছেলে আমিনুল ইসলামের পক্ষ থেকে ৫০/২৪ নম্বর ঘোষণার মামলা রয়েছে।
এ ছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪/১৪৫ ধারায় দায়ের করা একটি মামলায় বিরোধপূর্ণ জমিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে ভোগদখল বজায় রাখার নির্দেশনা আদালত দিয়েছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
কামরুল হাসান বলেন, তিনি বিরোধপূর্ণ জমির ক্রেতা বা বিক্রেতা—কোনো পক্ষই নন। তবে সাদেকুল ইসলাম ও কাজিরন বেগমের মামা হিসেবে তাদের অভিভাবকত্বের দায়িত্ব পালন করে বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা করে আসছেন। এরপরও তাকে একাধিক মামলায় আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তার অভিযোগ, আজিজার রহমানসহ সংশ্লিষ্টরা তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছেন। ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে তার বিরুদ্ধেও ভূমি-সংক্রান্ত আইনে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এসব মামলা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে বলেও জানান কামরুল হাসান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত ২০ আগস্ট সাদেকুল ইসলাম ও কাজিরন বেগমের ভোগদখলীয় জমিতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উদ্যোগে একটি টিউবওয়েলের গোড়া পাকা করার কাজ চলছিল। এ সময় আজিজার রহমানসহ কয়েকজন সেখানে গিয়ে টিনের বাউন্ডারি ভেঙে টিউবওয়েলের গোড়া পাকা করার কাজে ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রী ভাঙচুর করেন।
এ ঘটনায় তার ভাগিনা শাহাদাত হোসেন বাদী হয়ে ২০ আগস্ট থানায় এজাহার দায়ের করেন এবং পরে ২৭ আগস্ট অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
কামরুল হাসানের আরও অভিযোগ, ওই ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ের করা মামলার কার্যক্রম থেকে রেহাই পাওয়ার উদ্দেশ্যে প্রতিপক্ষ তার ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করার চেষ্টা করছে।
তিনি দাবি করেন, গত ২৬ আগস্ট পারিবারিক কলহের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে আজিজার রহমানের পক্ষের লোকজন তার ও তার পক্ষের লোকজনের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে মামলা-মোকদ্দমার ভয় দেখান। পরে তাকে মামলায় ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে আরিফ মিয়ার স্ত্রী জরিনা বেগমকে নিজেরাই মাথা ও কানে আঘাত করে হাসপাতালে ভর্তি করান বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে থানায় মামলা রেকর্ড করানোর জন্য তদবির করা হচ্ছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।
কামরুল হাসান বলেন, জমির মালিকানা ও রেকর্ড নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে তা আদালতের মাধ্যমে আইনগতভাবে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। কিন্তু বিরোধকে কেন্দ্র করে একের পর এক মামলা হওয়ায় তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
এ সময় তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও এলাকার সুধীজনের প্রতি ঘটনাগুলো নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

_medium_1788677433.jpg)





