বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩
শিরোনাম

মাধবপুরে সরকারি দামের তোয়াক্কা নেই, লাইসেন্স ছাড়াই চলছে এলপিজি বিক্রির অভিযোগ 


  মো: মহিউদ্দিন আহাম্মেদ

প্রকাশ :  ০৮ জুলাই ২০২৬, ০১:১৪ দুপুর

সরকার ১২ কেজি এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) সিলিন্ডারের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১ হাজার ৫২৮ টাকা নির্ধারণ করলেও হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বিভিন্ন বাজারে সেই নির্দেশনার বাস্তব প্রতিফলন নেই। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, উপজেলার অধিকাংশ খুচরা বিক্রেতা এখনো ১ হাজার ৮০০ টাকা বা তারও বেশি দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি করছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়া এলপিজি বিক্রির অভিযোগও উঠেছে।  

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বাজার ঘুরে দেখা যায়, মুদি দোকান, হার্ডওয়্যার দোকানসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে। তবে অধিকাংশ দোকানে সরকার নির্ধারিত মূল্যতালিকা প্রদর্শন করা হয়নি। অনেক দোকানির কাছে বিস্ফোরক অধিদপ্তরের লাইসেন্স দেখতে চাইলে তারা তা দেখাতে পারেননি বা এ বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

  প্রচলিত বিধান অনুযায়ী, তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বিধিমালা, ২০০৪ অনুসারে এলপিজি সংরক্ষণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও বিক্রির জন্য বিস্ফোরক অধিদপ্তরের লাইসেন্স বাধ্যতামূলক। এছাড়া গ্যাস সিলিন্ডার বিধিমালা, ১৯৯১ এবং গ্যাসাধার বিধিমালা, ১৯৯৫-এ সিলিন্ডার সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা রয়েছে। সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি বা মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করাও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের কারণ হতে পারে। 

 ধর্মঘর এলাকার বাসিন্দা জোবায়ের আহমেদ বলেন, সরকার দাম কমানোর ঘোষণা দিলেও আমরা এখনো ১ হাজার ৮০০ টাকার নিচে সিলিন্ডার কিনতে পারছি না। বাজারে সরকারি দামের কোনো প্রভাব নেই।  

রতনপুর এলাকার বাছির রাজা বলেন, সরকার দাম কমিয়েছে শুনে খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু বাস্তবে সব দোকানেই আগের দাম নেওয়া হচ্ছে। গতকালই আমি ১ হাজার ৭০০ টাকায় কিনেছি। 

অন্যদিকে বাঘাসুরা ইউনিয়নের কালিকাপুর বাজারের খুচরা বিক্রেতা ফারুক আহমেদ দাবি করেন, তারা ডিলারদের কাছ থেকেই বেশি দামে সিলিন্ডার কিনছেন। তাই কম দামে বিক্রি করা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। 

জগদীশপুরের তেমনিয়া এলাকার ডিলার জজ মিয়া বলেন, কোম্পানি ও ডিস্ট্রিবিউটরের কাছ থেকে যে দামে সিলিন্ডার পান, তাতে সরকারি নির্ধারিত দামেই বিক্রি করা হচ্ছে । খুচরা বিক্রেতার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, তারা নিয়ম মেনেই ব্যবসা করছেন।  

বিষয়টি নিয়ে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে এলপিজি বিক্রির সুযোগ নেই। আমি নিজেই আজ বাজার মনিটরিং করেছি। যেসব এলাকায় সরকারি বিধি মোতাবেক বিক্রি হচ্ছে না—এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাজার তদারকি আরও জোরদার করা হবে।  

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, উপজেলায় কতজন বৈধ লাইসেন্সধারী এলপিজি বিক্রেতা রয়েছেন, কতজন লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা করছেন এবং কেন সরকারি মূল্য বাস্তবায়ন হচ্ছে না—এসব বিষয় তদন্ত করে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা জরুরি। তাদের মতে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত হলেই ভোক্তারা সরকারি নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি কিনতে পারবেন এবং অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ কমে আসবে। 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত