২৫ বছরেই অন্ধ হয়ে গেলেন আকলিমা, এখন দুই সন্তানকে দেখাই তার শেষ স্বপ্ন
নাহিদ আলম, স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : ১১ জুন ২০২৬, ১০:১৫ দুপুর

বয়স মাত্র ২৫ বছর। অথচ এই অল্প বয়সেই জীবনের সব আলো যেন নিভে গেছে আকলিমা আক্তারের। হারিয়েছেন স্বামীকে, হারিয়েছেন নিজের দুটি চোখের দৃষ্টিশক্তিও। এখন সাত বছরের তানজিলা ও চার বছরের নুসরাত নামের দুই অবুঝ কন্যাসন্তানকে নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা আর মানবেতর জীবন কাটছে তার। উন্নত চিকিৎসা পেলে আবারও দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার আশা দেখিয়েছেন চিকিৎসকরা। কিন্তু সেই চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা, যা জোগাড় করা অসহায় পরিবারটির পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার আগিয়া ইউনিয়নের বেড়াইল মধ্যপাড়া গ্রামের।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় আট বছর আগে পূর্বধলা উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের সানকিডুয়ারি গ্রামের মৃত মইজ উদ্দিন খানের ছেলে টিএস খানের সঙ্গে পারিবারিকভাবে আকলিমার বিয়ে হয়। সুখেই চলছিল তাদের ছোট্ট সংসার। কিন্তু প্রায় চার বছর আগে হঠাৎ তীব্র জ্বর, চোখসহ সারা শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা এবং ঝাপসা দেখার সমস্যায় আক্রান্ত হন আকলিমা।
প্রথমে তাকে পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে ময়মনসিংহ ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। চিকিৎসকরা জানান, তার মস্তিষ্কে পানি জমেছে এবং দ্রুত অপারেশনসহ উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন।
এদিকে স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন স্বামী টিএস খান। কিন্তু চিকিৎসা চলাকালীন সময়েই স্বামী টিএস খান লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পর আকলিমার জীবনে নেমে আসে আরও গভীর অন্ধকার।
পরিবারের অভিযোগ, স্বামীর মৃত্যুর পর সহানুভূতির বদলে শ্বশুরবাড়িতে নির্যাতনের শিকার হন আকলিমা। একপর্যায়ে অন্ধ অবস্থায় দুই মেয়েকে নিয়ে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। বাধ্য হয়ে তিনি আশ্রয় নেন নিজের মায়ের ভাঙাচোরা কুটিরে।
জানা গেছে, আকলিমার মাও প্রায় ১২ বছর আগে স্বামীর পরিত্যক্ত হন। মানুষের বাড়িতে কাজ করে কোনোমতে জীবন চালান তিনি। সেই অভাবের সংসারেই এখন বসবাস করছেন অন্ধ আকলিমা ও তার দুই শিশু সন্তান। মানুষের দান-অনুদান আর প্রতিবেশীদের সহায়তায় কোনো রকমে তাদের দিন কাটছে।
আকলিমার পরিবারের সদস্যরা জানান, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে তিনি আবারও দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেতে পারেন। নিজের সন্তানদের দেখতে পারবেন, স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন। তবে এজন্য প্রয়োজন প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা।
তারা জানান, যে পরিবারে প্রতিদিনের খাবার জোগাড় করাই কঠিন, সেখানে এত বড় অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করা প্রায় অসম্ভব। ফলে টাকার অভাবে থমকে আছে আকলিমার চিকিৎসা।
চোখের আলো হারানো এই তরুণী মা আবারও পৃথিবীর আলো দেখতে চান। দেখতে চান তার দুই কন্যাসন্তানের মুখ। পাশাপাশি অসহায় পরিবারটির মাথা গোঁজার জন্য একটি ছোট্ট ঘরেরও প্রয়োজন রয়েছে।
আকলিমার চিকিৎসা এবং তার দুই শিশুসন্তানের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় সমাজের পূর্বধলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী বাংলাদেশি, মানবিক সংগঠন ও সামর্থ্যবান মানুষের প্রতি সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছে তার পরিবার।
সাহায্য পাঠাতে ও যোগাযোগ করতে:
বিকাশ (ব্যক্তিগত): ০১৯১১-১৭২২৪৮







