পূর্বধলায় বাউন্ডারি ওয়ালে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পুরোনো রাস্তা বন্ধ হচ্ছে না, আশ্বাস ইউএনওর
নাহিদ আলম, স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২২ বিকাল

নেত্রকোনার পূর্বধলায় হোগলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের কারণে দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের বাসিন্দাদের মানববন্ধনের পর সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শফিকুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে তিনি হোগলা ইউনিয়ন ভূমি অফিস এলাকায় গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তা, বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের স্থান ও আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখেন।
এর আগে বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের কারণে পুরোনো চলাচলের রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রাস্তা রাখার দাবিতে মানববন্ধন করেন স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের বাসিন্দারা। মানববন্ধন থেকে তাঁরা দীর্ঘদিনের চলাচলের পথটি রাখার পাশাপাশি ভূমি অফিসের জায়গায় বসবাসরত ছয়টি ভূমিহীন পরিবারের পুনর্বাসনের দাবি জানান।
সরেজমিনে পরিদর্শনের সময় ইউএনও শফিকুল ইসলাম স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের নেতা এবং বাসিন্দাদের সঙ্গে বসে তাদের বক্তব্য ও দাবিগুলো শোনেন। এ সময় তাঁরা জানান, বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের কারণে প্রায় দেড়শো বছরের পুরোনো রাস্তা বন্ধ হয়ে গেলে প্রায় ৫০টি পরিবারের স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও গির্জায় যাতায়াতকারী মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি কৃষিজমির ফসল আনা-নেওয়া এবং জরুরি প্রয়োজনে যানবাহন চলাচলেও সমস্যা হতে পারে।
এ সময় পূর্বধলা উপজেলা আদিবাসী ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মনেস নওরেক, গারো ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের গ্রাম কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এভারেস্ট হাউই, হোগলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা মো. খসরুজ্জামানসহ স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ইউএনও শফিকুল ইসলাম জানান, বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের কারণে যাতে তাঁদের দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তা বন্ধ না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তিনি তাঁদের আশ্বস্ত করে বলেন, বিষয়টি নেত্রকোনা জেলা প্রশাসকের কাছে তুলে ধরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইউএনও বলেন, চলাচলের রাস্তা নিয়ে স্থানীয়দের এই সমস্যার কথা আগে তাকে কেউ জানাননি। বিষয়টি তাকে জানানো হলে হয়তো মানববন্ধনের মতো কর্মসূচি করার প্রয়োজন হতো না। তিনি বলেন, কারও কোনো দাবি-দাওয়া বা সমস্যা থাকলে কোনো প্ররোচনায় না পড়ে সরাসরি তার কাছে অথবা জেলা প্রশাসকের কাছে এসে বিষয়টি জানানো উচিত।
এ ছাড়া হোগলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের জায়গায় বসবাসরত ছয়টি ভূমিহীন পরিবারের পুনর্বাসনের বিষয়েও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে জানান তিনি। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ছয়টি পরিবারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সহায়তা কর্মসূচির আওতায় আবেদন করে সহায়তার ব্যবস্থা করার কথাও জানান ইউএনও।
এ সময় ভূমি অফিসের পাশের খালটি সংস্কার করে পানির স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
ইউএনও শফিকুল ইসলাম বলেন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের লোকজনকে এর আগেও বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।
এদিকে ইউএনওর সরেজমিনে পরিদর্শন, চলাচলের রাস্তা রাখার আশ্বাস এবং ভূমি অফিসের জায়গায় বসবাসরত ছয়টি ভূমিহীন পরিবারের পুনর্বাসনের বিষয়ে আশ্বস্ত করায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের বাসিন্দারা।







