জর্দার কৌটায় স্বপ্ন ভঙ্গ মনোয়ারার
রফিক মজিদ, শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০২ দুপুর
_original_1788775357.jpg)
শেরপুরের নালিতাবাড়ী পৌরশহরের পুরাতন জেলখানা রোডসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা মনোয়ারা বেগম। তিন মাস আগে স্বামী জিয়া উদ্দিন মারা গেছেন, অভাবের সংসার। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে জর্দার কৌটায় টাকা জমিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু হঠাৎ কৌটা খুলে দেখেন সব টাকা নষ্ট হয়ে গেছে। দীর্ঘদিনের কষ্টের সঞ্চয় নষ্ট হয়ে যাওয়ায় স্বপ্নগুলো ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেছে, সেই সাথে তিনি এখন পাগল প্রায়।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের হতে জানা যায়, মনোয়ারা বেগম ভোগাই নদী থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বালু ও পাথর উত্তোলন করে বিক্রি করতেন। মনোয়ারা স্বামী জিয়া উদ্দীন মিষ্টি তৈরির কারিগর। দু’জনের কষ্টের উপার্জনেই চলত তাদের সংসার। সেই আয় থেকেই অনেক কষ্টে দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন তারা। সংসারের খরচ মেটানোর পর ভবিষ্যতের কথা ভেবে প্রায় ১০ বছর ধরে অল্প অল্প করে টাকা জমাতেন তারা। খুচরা টাকা জমিয়ে পরে এক হাজার টাকার নোট সংগ্রহ করতেন। এভাবে ধীরে ধীরে তাদের সঞ্চয় বাড়তে থাকে। প্রায় আট মাস আগে সেই সঞ্চয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ লাখ টাকা। পরে টাকাগুলো একটি জর্দার কৌটায় রেখে দেন মনোয়ারা।
প্রায় তিন মাস আগে মারা যান জিয়া উদ্দীন। স্বামীর মৃত্যুর পর মনোয়ারার সংসারে আরও কঠিন সময় নেমে আসে। জীবিকার জন্য যে ভোগাই নদীতে বালু-পাথর তুলতেন, সেখানেও এখন আগের মতো পাথর নেই। ফলে সেই কাজ থেকেও আয় বন্ধ হয়ে গেছে।
সম্প্রতি টাকার প্রয়োজন হলে জর্দার কৌটাটি বের করেন মনোয়ারা। কিন্তু কৌটার মুখ কোনোভাবেই খুলতে পারছিলেন না। পরে বাধ্য হয়ে কৌটার মুখ কেটে ভেতরের টাকা বের করেন। ওটার মুখ খুলতেই মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ল মনোয়ারার, কৌটার ভেতরে থাকা টাকাগুলো ঝাঁঝরা হয়ে টুকরা টুকরা হয়ে গেছে। দীর্ঘদিনের কষ্টের সঞ্চয় আর ব্যবহার করার মতো নেই।
মনোয়ারা বেগম কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘এই ট্যাহাডা আছিল আমার শেষ সম্বল। স্বামী নাই, কামকাজও নাই। মেয়েগো বিয়া দিছি অনেক কষ্টে। দশ বছর ধরে একটু একটু কইরা টাকা জমাইছি। ভাবছিলাম, বিপদের সময় এই ট্যাহাডা কাজে লাগামু। অহন সব শেষ হইয়া গেল। অহন আমি কী করমু?’
প্রতিবেশী আব্দুস সামাদ বলেন, মনোয়ারা বেগমের স্বামী মারা গেছেন তিন মাস আগে। অনেক কষ্টে দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। সংসারের খরচ মিটিয়ে অল্প অল্প করে প্রায় ১০ বছর ধরে টাকাগুলা জমিয়েছিলেন।নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মালেক বলেন, মনোয়ারার ব্যাপারে তথ্য পেয়েছি। আবেদনের প্রেক্ষিতে বিধি মোতাবেক সরকারি সহযোগিতা করা হবে।



_medium_1788755426.jpg)

_medium_1788754864.jpg)

