প্রসূতি সেবা মিলছেনা বাদিয়াখালী মাতৃসদনে
সিদ্দিক আলম দয়াল
প্রকাশ : ০৩ মার্চ ২০২৫, ১২:০২ দুপুর

ডাক্তার নাই কিন্তু ভিজিটর নার্স সহ আছে ৪ জন । লোক আসা দেখলেই তারাও আসেন মাতৃসদনে । তারা নিয়মিত না আসলেও পাচ্ছেন বেতন ভাতা। বিশাল অবকাঠামো দাড়িয়ে আছে। চারদিকে ঘেরা লাল দালান আছে ,আছে আবাসিক ভবন ও গ্যারেজ । প্রতিষ্টার প্রতি ডাক্তার পোষ্টিং নেই । যারাও আছেন সে কর্মকর্তারা কেউ নিয়মিত আসেন না । এ নিয়ে এলাকার মানুষের বিস্তর অভিযোগ। উপড়ে ফিটফাট ভেতরে সদরগাট -এ চিত্র গাইবান্ধা সদর উপজেলার বাদিয়াখালী মা ও শিশু কল্ল্যাণ কেন্দ্রের।
জেলা শহর গাইবান্ধা থেকে অন্তত ১৪ কিলোমিটার দক্ষিনে আলাই নদীর পারে দেয়াল ঘেড়া বাদিয়াখালী মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্র । এখানে এ অঞ্চলের দরিদ্র রোগী ছাড়াও সব ধরনের প্রসুতি মা ও শিশুদের সেবা ও কল্যাণে ব্যবহার করার কথা । সেই অনুযায়ী মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রে বিছানা ,গর্ভকালীন মায়েদের যাবতীয় সুবিধা দিতে দেয়া হয় নানা সরঞ্জাম । সুন্দর করে সাজানো বিছানা থাকার কথা থাকলেও বিছানার জায়গায় বিছানা নেই । বিশাল অবকাঠামো থাকলেও মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রের দরোজা সহ সব কিছুই থাকে বন্ধ। রোগীরা দুরদরন্তে আসেন আর দিনভর মাঠে অপেক্ষা করে ফিরে যান । নার্স,আয়া ,ভিজিটর থাকলেও শুধু দুই বোনকে দরজা খুলে মাঠে বসে থাকতে দেখা যায়। পাল খান আর বসে বসে গল্প করেন । আর বড় কর্তাদের পোষ্টিং থাকলেও অনেকেই যায়না কোন দিন । পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে প্রসুতিসেবার নানা সরঞ্চাম। বিশাল দেয়াল ঘেড়া মা ও শিশু মঙ্গল কেন্দ্রের আবাসিক ভবনটি নির্মানের পর থেকে কেউ ব্যবহার না করায় তা পরিত্যাক্ত থেকে নষ্ট হয়ে গেছে। ভিজিটর ফেরদৌসী বেগম ,দাইনার্স নার্স মুন্নি আকতার,আয়া মনোয়ারা খাতুন সহ ওষুধপত্র সবি আছে কাগজে কলমে। কিন্তু কাজের বেলায় ঠনঠনে। দুই বোন নার্স মুন্নি আকতার ও আয়া মনোয়ারা খাতুনের বাড়ি পাশেই । সে কারনে তারা পান চিবুতে চিবুতে আসেন আর মাঠে চেয়ার নিয়ে বসে খোস গল্প করেন । কারন তারা মা ও শিশুদের কোন প্রকার চিকিৎসাই দিতে পারেন না। ফরে তাদের কাজ বলতে দরজা খোলা রাখা।
এখানে একটি ডেলিভেরি ওয়ার্ড আছে । জালানা দিয়ে দেখা যায় কিন্তু সে ডেলিভেরি ওয়ার্ড দেখলে মনে হবে কোন দিন তা ব্যবহার করা হয়নি। তারাও স্বীকার করেন ডেলিভেরি করানোর মতো ভিজিটর নেই তাই ডেলিভেরি ওয়ার্ড থাকলেও দীর্ঘদিন ব্যবহার নেই । নাস মুন্নি আকতার নিজেই বলেন ,প্রসুতি সেবা বন্ধ,ডেলিভেরি সেবা অনেক দিন থেকে বন্ধ। শুধু ভিজিটর আসেন দুই সপ্তাহে ১ শনিবার। কিছু ওষুধ বিতরন করে বাড়ি চলে যান। আর আয়া মনোয়ারা বেগম ও নার্স মুন্নি বেগম দুজন আপন বোন বসে থাকেন পাহারা দিতে । তাদের নিজের বাড়ি ও স্বামীর বাড়ীও বাদিয়াখালীর মাতৃসদনের পাশে।
তারা দুজনে সকালে এসে মাতৃসদনের দরজা খুলে মাঠে বসে খোলা হাওয়া আর রোদ পোহান এবং খোশ গল্প করেন । এলাকার লোকজন তাদের কাছে কোন সেবা পায়না। বাদিয়াখালীর মানবাধিকারকর্মী কাজী আব্দুল খালেক জানান, শুধু ১৫ দিন পর ১ দিন ভিজিটর আসেন আর রোগীদের ভাগ্যে জোটে দু’চারটি ট্যাবলেট।
ময়না বেগম নামের এক নারী প্রসব বেদনা নিয়ে এসেছেন পদুমশহর গ্রাম থেকে । তিনি নানা অভিযোগ করেন তাদের বিরুদ্ধে। অবশেষে কোন ওষুধপত্র আর প্রসুত সেবা না পেয়ে ১ শ টাকা খচর করে চলে যান গাইবান্ধায়। যেতে যেতে বলেন ,এটা থাকিয়া গরীব মাইসের লাভ কি ময়না বেগমের মতো অনেকেই সেবা নিতে আসেন এখানে। কিন্তু এসে দাই নার্সের কাছে শুনে তারা চিকিৎপত্র ও ওষুধ কোনটাই না পেয়ে গাইবান্ধা শহরে যেতে বাধ্য হন । বাদিয়াখালী পাল পাড়ার বাসিন্দা দীপক কুমার পাল জানান,এভাবে দিনে অন্তত ২০ জন প্রসুতি মা সেবা নিতে ফিরে যান অন্যত্র।
প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বাদিয়াখালী মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রে অনেকেই বদলী হয়ে আসেন । কিন্তু এখানে কোযাটার থাকলেও তা ব্যবহার না করায় জুয়ারীদের দখলে চলে গেছে। তিনি বলেন ,সরকার কা মাল দড়িয়া মে ঢাল- অবস্থায় চলে আসছে দীর্ঘদিন যাবৎ। দেখতেও যেমন উপরে ফিটফাট ভেতরে সদরঘাট অবস্থা।
এব্যাপারে গাইবান্ধা জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক তারিকুল ইসলাম বলেন ,লোকবল কম,ওষুধ কম থাকায় বাদিয়াখালী মাতৃসদনে সেবার মান খুব ভালো ভাবে রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছেনা । তবে আমরা চেষ্টা করছি বাদিয়াখালী মার্তৃসদন থেকে যাতে গ্রামের মানুষ সেবা পায়।







