পরিত্যক্ত জমিতে পিয়ারা চাষে সফলতা: আল মাহদী হাসানের দৃষ্টান্ত
আসাদুজ্জামান রুবেল
প্রকাশ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:২০ বিকাল

গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী পৌরশহর থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরের আন্দুয়া গ্রামের বাসিন্দা আল মাহদী হাসান এক সময় ছিলেন বেকার যুবক। তাঁর স্বপ্ন ছিল পড়াশোনা শেষ করে একটি সরকারি চাকরি করা। কিন্তু সময়ের বাস্তবতায় তিনি বেছে নেন ভিন্ন পথ—কৃষি। আর সেই পথেই পেয়েছেন অভাবনীয় সাফল্য।
বাড়ির পাশের প্রায় ৯০ শতাংশ পরিত্যক্ত জমিকে কাজে লাগিয়ে উন্নত জাতের পিয়ারা চাষ শুরু করেন মাহদী। ২০২০ সালে করোনাকালীন সময়ে তিনি প্রথমবারের মতো প্রায় ৯০০টি থাই জাতের পিয়ারা চারা রোপণ করেন। সঠিক পরিচর্যার ফলে প্রতিটি গাছ থেকে ২-৩ মণ পর্যন্ত পিয়ারা উৎপাদন হচ্ছে। প্রতি মণ পিয়ারা ৩,৬০০ টাকা দরে বিক্রি করে তিনি বছরে প্রায় ৬ লাখ টাকা আয় করছেন। খরচ বাদ দিয়েও ভালো লাভের আশা করছেন তিনি। চলতি বছরে তাঁর লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৮ লাখ টাকার পিয়ারা বিক্রি করা।
সরেজমিনে দেখা যায়, তাঁর বাগানে গাছে গাছে ঝুলছে অসংখ্য সবুজ ও আকর্ষণীয় পিয়ারা। চারদিকে তাকালেই চোখে পড়ে শুধু পিয়ারার সমারোহ। বাগানে প্রধানত জৈব সার ব্যবহার করা হয়েছে, সঙ্গে সামান্য রাসায়নিক সার প্রয়োগ করা হয়েছে। কীটনাশক ও বালাইনাশকের ব্যবহারও খুব কম, ফলে এসব পিয়ারা নিরাপদ, বিষমুক্ত এবং পরিবেশবান্ধব। স্বাদেও এগুলো বেশ সুস্বাদু হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা বেশি।
আল মাহদী হাসান জানান, দীর্ঘদিন অব্যবহৃত পড়ে থাকা জমিকে কাজে লাগানোর চিন্তা থেকেই তিনি পিয়ারা চাষে নামেন। উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমানের পরামর্শে উন্নত থাই জাতের চারা সংগ্রহ করে চাষ শুরু করেন। মাত্র তিন মাসের মধ্যেই গাছে ফুল ও ফল আসতে শুরু করে, যা তাকে আরও উৎসাহিত করে।
তিনি আরও জানান, পঁচা কচুরিপানা ও জৈব সার ব্যবহার করে বাগানের মাটির উর্বরতা বাড়িয়েছেন। এতে খরচ কমেছে এবং ফলনও বেড়েছে।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, থাই জাতের পিয়ারা উচ্চ ফলনশীল এবং অল্প সময়েই ফলন দেয়। কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা এই চাষে সফল হতে পারেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাজ্জাদ হোসেন সোহেল ইসলাম জানান, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় বিভিন্ন ফসলের পাশাপাশি পিয়ারা চাষও বেড়েছে। কৃষকরা জৈব পদ্ধতিতে বিষমুক্ত পিয়ারা উৎপাদন করছেন। বাজারে ভালো চাহিদা ও ন্যায্য মূল্য পাওয়ায় তারা লাভবান হচ্ছেন।
পরিত্যক্ত জমিকে কাজে লাগিয়ে আল মাহদী হাসানের এই সাফল্য এখন এলাকার অন্যান্য কৃষকদেরও উদ্বুদ্ধ করছে।







