পূর্বধলা বালিকা বিদ্যালয় রোডের বেহাল দশা, সৃষ্টি হচ্ছে দুর্ভোগ
মো: জায়েজুল ইসলাম
প্রকাশ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:০৭ বিকাল

নেত্রকোনার পুর্বধলা সদরে বালিকা বিদ্যালয় রোডে বেহাল দশা বিরাজ করছে। এই রাস্তায় ভাঙ্গনের মাধ্যমে গর্তসৃস্টি হওয়ায় পথচারী ও যান চলাচালে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এতে এলাকাবাসীর মাঝে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। সরেজমিনে দেখা যায় উপজেলা সদরের রাজপাড়া থেকে পুর্বধলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার পর্যন্ত স্টেশন রোড লাগোয়া বালিকা বিদ্যালয রোডের ব্যপ্তি। এই রাস্তাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। এই রাস্তার পাশেই রয়েছ একটি বালিকা বিদ্যালয়, ৩টি কিন্ডারগার্টেন স্কুল। এছাড়াও রয়েছে একটি মসজিদ, ডাক্তারী চেম্বারসহ বিশাল জনসাধারনের বসবাস। এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন বিদ্যালয়ের শতশত কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ এলাকার জনসাধারন চলাচল করে থাকেন।

কিন্তু এই রাস্তাটিতে ভাঙ্গনের মাধ্যমে গর্তসৃস্টি হওয়ায় এসব পথচারীদের প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যায় রাজপাড়া থেকে বালিকা বিদ্যালয় রোডে প্রবেশ করার একটু পরেই অনেকটা জায়গা জুড়ে একটি বড় গর্ত। এতে সারাক্ষণ পানি জমে থাকে। রাস্তার পাশে ড্রেন না থাকায় বৃষ্টির পানি সরতে পারেনা। তাছাড়া বাসাবাড়ীর পয়:নিষ্কাশনের পানিও এখানে এসে জমা হয়। এতে শুকনা মওসুমেও এখানে পানি জমে থাকে বলে জানায় এলাকাবাসী।
এলাকাবাসী আরো জানায় রাস্তাটি এক বছর আগে অনেক দুর্ভোগের পর সংস্কারে মাধ্যমে পাকাকরন করা হয়। তারপর এক বছর যেতে না যেতেই আবার ভাঙ্গন দেখা দেয়। কারন হিসেবে বলছেন রাস্তার পাশে ড্রেন না থাকায় পনি সরতে পারে না। আর সে জন্য রাস্তার স্থানে স্থানে পানি জমে থাকে। আর একারনেই ভাঙ্গনের মাধ্যমে গর্ত সৃস্টি হয়। এছাড়া উপজেলার স্টেশন রোডের ব্র্যাক অফিসের সামনে রাস্তার ভাঙ্গন মেরামাতে উচু করে আরসিসি ঢালাই দেওয়া হয়েছে। এতে ঢালাইয়ের দুই পাশে পানি সরতে না পারায় ওখানেও ভাঙ্গনের উপক্রম হয়েছে। এখানেও দুই পাশে ড্রেন না থাকায় বৃষ্টির পানি সরতে পারছে না।
বালিকা বিদ্যালয় রোড দিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করেন বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা সুরাইয়া আক্তার, আরবান একাডেমির পরিচালক মো: ফিরোজ মিয়া বলেন, রাস্তার ভাঙ্গনের কারনে এখানে গ্রামের রাস্তার মত জুতা হাতে নিয়ে পার হতে হয়। মিডিয়া আইডিয়াল স্কুলের শিক্ষার্থী ইফাত, সোনিয়া, বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্রিয়া রাণী দাস, জোয়ায়রা, হুমায়রা নৌশিন, জানান, এই রাস্তা দিয়ে আসতে আমাদের খুব কষ্ট হয়। অনেক সময় পড়ে গিয়ে জামা, বই নষ্ট হয়ে যায়।
এই রোডের বাসিন্দা মৌদাম সেসিপ মডেল উচ্চ বিদ্যায়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা বলেন, এই রাস্তার ওই অংশটুকু আমাদের জন্য একটি দু:খ। আমরা বাসা থেকে বের হয়ে এই রাস্তা যেতে চাইলেই পা ভিজিয়ে জুতা হাতে নিয়ে যেতে হয়। এটা খুবই বিড়ম্বনা এবং দুর্ভোগের বিষয়। তাই তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য অথবা প্রশাসনের কাছে দাবী জানিয়ে বলেন, এই ভাঙ্গনের অংশে, জরুরী ভিক্তিতে ইট সুরকী অথবা রাবিস ফেলে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে পদক্ষেপ নেওয়া।
মিডিয়া আইডিয়াল স্কুলের পরিচালক জুলফিকার আলী শাহীন বলেন, রাস্তার পাশে ড্রেন না থাকায় বাসাবাড়ির পানি রাস্তায় গিয়ে পড়ে এবং বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারে না। ফলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে রাস্তায় ভাঙ্গন সৃষ্টি হচ্ছে। এ বিষয়ে স্থায়ী সমাধানের জন্য দুই পাশে ড্রেন নির্মাণের দাবী জানান। তিনি আরও বলেন পূর্বধলায় পৌরসভা না থাকায় অপরিকল্পিতভাবে বাসাবাড়ী ও স্থাপনা নির্মাণ করায় এবং রাস্তার পাশে ড্রেন না থাকায় এমন দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। তাই তিনি পূর্বধলা পৌরসভা চালুরও দাবী জানান।
উপজেলা প্রকোশলী মিশুক দত্ত বলেন, এই রাস্তাটি এক বছরের মত হয়েছে মেরামত করা হয়েছে। এই রাস্তায় দুই পাশে বসবাসকারী লোকজন বাসাবাড়ির পানি প্রতিনিয়ত রাস্তার উপর ছেড়ে দেওয়ায় পানি জমে রাস্তায় ভাঙ্গন দেখা দিচ্ছে। উপজেলায় এ রাস্তাটিসহ প্রধান প্রধান কয়েকটি রাস্তার পাশে ড্রেন নির্মানের পরিকল্পনা রয়েছে।







