বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
শিরোনাম

নালিতাবাড়ীর নন্নিতে হতে যাচ্ছে বায়ো গ্যাস পল্লি


  ক্লোডিয়া নকরেক কেয়া

প্রকাশ :  ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪২ রাত

১ থেকে ৫টা গরু থাকলেই মিটে যাচ্ছে গ্যাসের চাহিদা।সারাদেশে যখন জ্বালানি গ্যাসের দামে ভোক্তা নাজেহাল তখন শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নি হয়ে উঠছে বায়ো গ্যাস পল্লির মডেল। 

সরেজমিনে দেখা যায় নন্নি ডেকরা পারার আবুল কালাম আযাদ (৪৫) তার ৬টা গরুর গোবর থেকে প্রতিদিন যে গ্যাস উৎপন্ন হয় তা দিয়ে তাদের দুটি পরিবারের রান্নার চাহিদা মিটছে। ৬ মাস যাবত তারা এই গ্যাস ব্যাবহার করছে এতে দুই পরিবারের মাসে আর্থিক খরচ কমেছে ৪০০০/ টাকা।
বায়োগ্যাস ব্যাবহারকারি নজরুল ইসলাম বলেন " গোবরের গ্যাস ব্যাবহার করলে কোন ঝামেলা নাই ,সংসারে টাকা আয় হচ্ছে,ব্যাবহার অনুপোযোগী গোবর জমিতে জৈব সার হিসেবে ব্যাবহার হচ্ছে,এটা দেশের গ্যাসের চাহিদা মিটাটে অবদান রাখছে।

মাদ্রাসা শিক্ষক খোকন মিয়া তার ৩টা গুরু থেকে গ্যাস উৎপাদন করছে।তিনি বলেন "আমিরা স্বামী স্ত্রী দুজনই চাকুরী করি তাই আগে খরির চুলায় রান্না অনেক ঝামেলা হতো সময় বেশি লাগতো এখন সেই ঝামেলা নেই। গরু থেকে দুধও পাচ্ছি ,গ্যাসও পাচ্ছি। অল্প সময়েই রান্না হয়। প্রতিমাসে গ্যাস কিনার ২ হাজার টাকা আর লাগেনা এটা সঞ্চয় থাকছে বছরে প্রায় ২৫ হাজার টাকা।এটা গ্রামাঞ্চলের জন্য খুব উপকারি এবং উপযোগী বলেও জানান তিনি।
স্থানীয়দের দেয়া তথ্যে মতে নন্নি ইউনিয়নে  একজন আরেকজনেরটা দেখে উৎসাহিত হয়ে প্রায় ৫০টি পরিবার এখন বায়োগ্যাস ব্যাবহার করছে। এদের মধ্যে কেউ কেউ পোল্ট্রির বিষ্ঠা দিয়েও গ্যাস উৎপাদন করছে।
 
এই বিষয়ে বায়োগ্যাস প্লান্টের উপ সহকারী প্রকৌশলী ,যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর আব্দুল্লাহ আল মনসুর জানান বাড়িতে ৩টা গরু থাকলে প্রতিদিন ৪০-৫০ কেজি গোবর পাওয়া যায়।প্রতি ২২ কেজি গোবর  থেকে ১ কেজি গ্যাস উৎপাদন হয় প্রতিদিন যা একটা পরিবারের চাহিদা অনায়াসে মিটে যায়। তিনি জানান বায়োগ্যাস এলাকাতে খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

জানা যায় সরকারের যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আওতায় ইমপেক্ট প্রকল্প ফেইস ৩ এর মাধ্যমে শেরপুর জেলার ৫ টি উপজেলায় মোট ৮৫টি  বায়ো গ্যাস প্লান্ট করা হচ্ছে। যার মধ্যে নালিতাবাড়ীর নন্নি ইউনিয়নে প্রকল্পের আওতায় ৩০টি প্লান্ট করা হয়েছে এবং নন্নি ইউনিয়ন কে  বায়োগ্যাস পল্লি ঘোষণার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিষয়টি সম্পর্কে শেরপুর জেলার যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক হারুনর রশীদ বলেন " এটি সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার একটি অংশ। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে গ্রামীণ এলাকায় জ্বালানি গ্যাসের চাহিদা পুরন হবে বলে আশা করছি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত