গাইবান্ধার সাঘাটা টেকনিক্যাল কলেজের ভবন নির্মাণকাজ নিয়ে ঠিকাদারের টালবাহানা
আসাদুজ্জামান রুবেল
প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:০৫ দুপুর
_original_1784797529.jpg)
আগের ঠিকাদার পালিয়ে যাওয়ার পর নতুন ঠিকাদার দায়িত্ব পাওয়ার ৪ মাস পেরিয়ে গেলেও গাইবান্ধার সাঘাটায় সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের নির্মাণকাজ শুরু করা হয়নি। বিগত ২০১৮ সালে শুরু হয়ে দেড় বছরে কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও তা ৮ বছরেও হয়নি।
গত ২০২৪ সালে কাজ বন্ধ করে ঠিকাদার পালিয়ে যাওয়ার পর নতুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চলতি ২০২৬ সালের ২৮ মার্চ আবার উদ্বোধন করে। দ্বিতীয় ঠিকাদারও গড়িমশি শুরু করায় ভবনটির নির্মাণ কাজে অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়,শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু হলেও শ্রেণি কক্ষ ও প্রশাসনিক ভবনের অভাবে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।
গাইবান্ধা জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে,জেলার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের কলেজমোড়ের সামনে কালপানিতে ১৫০ শতাংশ জমির উপর ১৫ কোটি ৪৭ লাখ ৪৬ হাজার ৬২৮ টাকা ব্যয়ে সাঘাটা টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়।জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে বিগত ২০১৮ সালের ২০ ফেব্রুয়ারী প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়। প্রকল্পের নির্মাণ কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পান ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ঢালী কনস্ট্রাকশন।
কার্যাদেশ মোতাবেক উদ্বোধনের পর ২০২১ সালের ৩০ জুন নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এ পর্যন্ত অর্ধেকাংশ কাজও শেষ হয়নি।গত ২০২৪ সালে নির্মাণ কাজ মাঝপথে ফেলে রেখে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নিয়ে পালিয়ে যায় ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন। এরপর দ্বিতীয়বারের মতো গাইবান্ধার সৈকত এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়।কাজ পাওয়া বর্তমান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চলতি বছরের ২৮ মার্চ নতুন করে কাজের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের ৪ মাস পেরিয়ে গেলেও আজও কাজ শুরু করা হয়নি।
এমনকি কোন ধরনের নির্মাণ সামগ্রীও প্রতিষ্ঠান চত্বরে আনা হয়নি বলে অভিযোগ করেন শিক্ষকগণ।এলাকার বাসিন্দা ইউনুছ আলী জানান,প্রতিষ্ঠানটির নির্মাণকাজ শুরু না হওয়ায় অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এটা ঠিক না।এ ব্যাপারে কথা হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সৈকত এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আব্দুল খালেক বলেন,কাজ শুরুর ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কোন প্রকার সহযোগিতা করা হচ্ছে না।তবে ফান্ড পাওয়া গেলে আগামী সপ্তাহেই কাজ শুরু হবে বলে জানান তিনি।প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিগত ২০২৫ সালের ১জানুয়ারী থেকে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ক্লাস করতে ভোগান্তিতে পড়েছে শিক্ষার্থীরা।
প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু সাঈদ মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ক্লাস ও প্রশাসনিক ভবন সহ কোনটিরই নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। পরের ঠিকাদারও কেন কাজ শুরু করছেন না তা বুঝতে পারছি না।বিষয়টি উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি। এ ব্যাপারে কথা হলে গাইবান্ধা জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী রতীশ চন্দ্র সেন (অতিরিক্ত দায়িত্ব) বলেন,ওই প্রতিষ্ঠানটির নির্মাণ কাজ শুরুর জন্য তাদেরকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।আশা করি দ্রুত কাজ শুরু হবে।







