শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩
শিরোনাম

পূর্বধলায় বোরো ধান কাটার শুরুতেই প্রাকৃতিক বিপর্যয়! টানা বৃষ্টির কারণে বিপাকে কৃষক!


  মো: জায়েজুল ইসলাম

প্রকাশ :  ০২ মে ২০২৬, ০২:৩৯ দুপুর

নেত্রকোনার পূর্বধলায় উঠতি বোরো ফসল নিয়ে ভীষণ উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে কৃষকের। মাঠভরা সোনালী ফসল টানা বৃষ্টির কারণে কাটতে পারছেন না তারা। ফলে জমিতেই নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে পাকা ধান। গত কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টিতে রোদের দেখা নেই। বোরো ধান কাটার উপযুক্ত সময় হলেও ধান কাটতে পারছেন না কৃষকরা। আবার কাটতে পারলেও শুকাতে পারছেন না। ভেজা ধান কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। টানা বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়ছে, এতে পাকা ধানক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। বৃষ্টির সঙ্গে ঝড়ো বাতাসে ধানগাছ শুয়ে পানিতে মিশে গিয়ে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে বাজারে ধানের দামের ধস ও তীব্র শ্রমিক সংকট কৃষকের জন্য ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ২১ হাজার ৮২২ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। কৃষকের নিবিড় পরিচর্যায় ফসলের অবস্থাও ভালো ছিল। এ ফসলকে ঘিরে কৃষকের ছিল নানা স্বপ্ন। কিন্তু বৈশাখ শুরু হতেই কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে সেই স্বপ্নে ধাক্কা লাগে। দফায় দফায় শিলাবৃষ্টিতে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরবর্তীতে বৈশাখের প্রথম সপ্তাহে আগাম জাতের ধান কাটা শুরু হলে বৃষ্টি বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বর্তমানে ধান কাটার ভরা মৌসুমে কয়েকদিন ধরে দিনরাত টানা বর্ষণে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, অধিকাংশ জমির ধান পেকে গেছে। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে ধান কাটতে পারছেন না কৃষকরা। অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকার ফসল পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে।

জারিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম মণ্ডল নান্টু বলেন, তার ইউনিয়নের গোজাখালী কান্দা, বাড়হা ও নাটেরকোনা অংশে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে অনেক কৃষকের ফসল তলিয়ে গেছে। ধলামুলাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজয়ানুর রহমান রনি জানান, তার ইউনিয়নের দেবকান্দা, চোরের ভিটা, এরোয়ারচর, কুড়িকুনিয়া, পাটলী ও ভবানীপুর এলাকার অনেক জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে।

মেঘশিমুল পূর্বপাড়া গ্রামের কৃষাণী আয়েশা বেগম বলেন, ৮ কাটা (৬৪ শতাংশ) জমি বর্গা নিয়ে চাষ করেছিলেন। অনেক কষ্টে ধান কেটে সড়কে এনে রাখলেও এখন বৃষ্টির কারণে মাড়াই-ঝাড়াই করতে পারছেন না। ফলে ধানে চারা গজিয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। উপজেলায় হার্ভেস্টার মেশিনের অপ্রতুলতায় শ্রমিক সংকট চরমে। এতে ধান কাটতে কৃষকদের বেশি মজুরি দিতে হচ্ছে। এক কাটা (৮ শতক) জমি কাটতে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে।

বৈরী আবহাওয়ার কারণে ধান শুকাতে না পেরে বাজারে বিক্রি করতেও বিপাকে পড়ছেন কৃষকরা। বর্তমানে প্রতি মণ ধানের সঙ্গে ‘ডলক’ নামে অতিরিক্ত ২ কেজি দিয়ে (অর্থাৎ ৪২ কেজিতে) ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা দাম পাচ্ছেন। এতে কৃষকরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন। কৃষকদের অভিযোগ, এত কম দামে ধান বিক্রি করে তারা সর্বস্বান্ত হওয়ার পথে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভেজা ধানের চাহিদা কম থাকায় দামও কম। পাশাপাশি টানা বৃষ্টিতে কৃষকরা ধান সেদ্ধ ও শুকাতে পারছেন না। মেঘশিমুল গ্রামের কৃষক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, খোরাকির জন্য প্রায় ২০ মণ ধান সেদ্ধ করেছিলেন, কিন্তু রোদ না থাকায় শুকাতে পারছেন না। পানিশানা গ্রামের কৃষাণী পারুল বেগমও একই সমস্যা তুলে ধরে বলেন, রোদ না থাকায় ধান সিদ্ধ ও শুকানো সম্ভব হচ্ছে না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জোবায়ের আহমেদ বলেন, টানা বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে উপজেলার কৃষকরা বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতায় ফসল নিমজ্জিত হয়েছে, ফলে ফলন কিছুটা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে এসে রোদ উঠলে ক্ষতির পরিমাণ কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত