নালিতাবাড়ীতে মূত্রত্যাগ করছে সরকারি অফিসের সামনেই
ক্লোডিয়া নকরেক কেয়া
প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:০৪ দুপুর

দুই লক্ষাধিক জনসংখ্যা নিয়ে নালিতাবাড়ী উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন থেকে আসা জনগন প্রতিদিন বিভিন্ন কাজে পৌরশহরে বা উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে আসা যাওয়া করে। হঠাৎ প্রাকৃতিক কাজের চাপ আসলে বিপাকে পরতে হয় তাদের। তারমধ্যে বেশি অসুবিধায় পরতে হয় নারী, বয়স্ক ,এবং শিশুদের। উপজেলা শহর বা পৌরশহরে নেই পর্যাপ্ত গণসৌচাগার ,যেগুলি ছিলো সেগুলি সঠিক রক্ষনাবেক্ষন এর অভাবে ব্যাবহারের অনুপোযোগী হয়ে আছে।
নালিতাবাড়ী উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয় এবং পৌরসভা কার্যালয় এর সামনেই প্রানী সম্পদ হাসপাতাল কার্যালয়টির সামনে প্রতিদিনই দেখা যায় অফিসের গেইট দিয়ে ঢুকার রাস্তাতেই বাজারে আসা লোকজন যত্রতত্র মলত্যাগ করছে। ফলে দূর্গন্ধ ছড়িয়ে পরিবেশ দূষন হচ্ছে। এতে প্রানী সম্পদ হাসপাতালে সেবা নিতে আসা লোকজনের পাশাপাশি সরকারি দপ্তরের লোকজনদেরও বিব্রত এবং বিপাকে পরতে হচ্ছে।হাসপাতালে সেবা নিতে আসা একজন নারী সুফলা (৫০)মারাক বলেন "হাসপাতালে ঢুকার সময় দেহি এক বেডা মুতবার বইসে গেইটের ভিতরে আয়া ,আমি শরমে অন্যদিকে চাইয়া আইলাম "।
রবিউল আলম (৪৫)নামে একজন জানান "প্রস্রাব পায়খানার গন্ধে রাস্তা দিয়ে হেটে যেতেও কষ্ট হয় , জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে পাব্লিক টয়লেট থাকলে হয়তো এই সমস্যা থাকতো না"।
নালিতাবাড়ী শহরের সাহা পারাস্থ সেজুতি বিদ্যানিকেতনে ঢুকার রাস্তায় এবং কনিকা ক্যাডেট একাডেমি সহ অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার রাস্তায় এবং আশেপাশে এই একই চিত্র দেখা যায়।বিদ্যালয়ের যাওয়ার রাস্তায় এবং আশেপাশে যেখানে সেখানে মল ত্যাগ করার কারনে পরিবেশ দূষন সহ শিশুদের সুস্থ্য মনোবিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সেজুতি বিদ্যানিকেতন এর প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান মনির। " আমরা বাচ্চাদের নাক চেপে ধরে রাস্তা দিয়ে যাই দূর্গন্ধের জন্য বমি করি অসুস্থ হয়ে যাই ,তাছারা দেখি পুরুষ মানুষ খোলা জায়গায় মলত্যাগ করছে তখন শিশু সন্তানদের সামনে খুব বিব্রত হই " বলছিলেন সুজানা নামের একজন নারী অভিভাবক।
নালিতাবাড়ী পৌর কতৃপক্ষের দেয়া তথ্য অনুযায়ী পৌর শহরে মোট ৬টি গন সৌচাগার আছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ৬টির মধ্যে ৫টিই একদম অচল এবং ব্যাবহার অনুপোযোগী। ১টি মাংস মহলের ব্যাবসায়ীদের তত্বাবধানে অসাস্থ্যকর ভাবেই চলছে।
সচেতন মহলের অনেকেই মনে করেন উপজেলা শহরের পরিধি এবং জনসংখ্যার কথা বিবেচনা করে জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে আরো কিছু গনসৌচাগার নির্মান প্রয়োজন এবং তার সঠিক রক্ষনাবেক্ষন জরুরী। নাহলে পরিবেশ দূষনের পাশাপাশি সামাজিক অবক্ষয় ভয়াবহ হবে।
জনস্বাস্থ্য রক্ষা ও পরিবেশ দূষন রোধে পৌরসভার আওতায় গণসৌচাগার নির্মান ও রক্ষনাবেক্ষন মূলত স্থানীয় সরকার (পৌরসভা)আইন ২০০৯ এবং সরকারের উন্নয়ন সহায়তা নির্দেশিকার আওতায় পরিচালিত হওয়ার কথা থাকলেও কেনো এই গণসৌচাগার গুলির সঠিক রক্ষনাবেক্ষন নেই এবং ব্যাবহার অনুপোযোগী! জানতে চাইলে নালিতাবাড়ী পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াদুদ কোন স্বদোত্তর দিতে পারেননি। পৌর প্রশাসক এর দায়িত্বে নতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যোগদান করলে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিবেন বলে জানান তিনি।



_medium_1777360954.jpg)
_medium_1777355320.jpg)


