গাইবান্ধায় জুলাই শহীদদের কবর নির্মাণের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন
আসাদুজ্জামান রুবেল
প্রকাশ : ১৫ জুন ২০২৬, ০৪:৪২ দুপুর

গাইবান্ধায় জুলাই শহীদদের কবর নির্মাণের বরাদ্দের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন শহীদ পরিবারের সদস্যরা। একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করেছেন, শহীদ পরিবারকে উপেক্ষা করে একটি পক্ষ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
সোমবার (১৫ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গাইবান্ধা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে জুলাই শহীদ পরিবারের স্বজনদের উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ছয়জন জুলাই শহীদের পরিবারের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শহীদ সাজ্জাদ হোসেন সজলের মা শাহিনা বেগম। তিনি অভিযোগ করেন, জেলার জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-সংশ্লিষ্ট কয়েকজন শীর্ষ নেতা শহীদ পরিবারকে বাদ দিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন এবং পতিত আওয়ামী লীগকে পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন।
তিনি আরও বলেন, জেলা পরিষদের প্রায় পাঁচ লাখ টাকা অনুদানে ছয়জন জুলাই শহীদের কবর পাকা করার কাজ শুরু হলেও তা দীর্ঘদিন ধরে অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এ বিষয়ে জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল চন্দ্র বর্মনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি প্রকৌশলী হারুন অর রশিদের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। পরে প্রকৌশলীর কাছ থেকে জানতে পারেন, গাইবান্ধা জেলা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক মেহেদী হাসান প্রকল্পের বিল উত্তোলন করেছেন।
শাহিনা বেগমের দাবি, বিষয়টি জেলা প্রশাসককে মৌখিকভাবে অবহিত করা হলেও অজ্ঞাত কারণে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এছাড়া গাইবান্ধায় জুলাই শহীদ ও আহতদের পুনর্বাসন কমিটি গঠন করা হলেও ওই কমিটিতে কারা রয়েছেন, সে সম্পর্কেও শহীদ পরিবারকে কিছু জানানো হয়নি।
তিনি বলেন, "আমাদের পাশ কাটিয়ে অভিযুক্তরা সব কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যা শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানির শামিল। এসব তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করায় আমাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।"
দায়ীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-কে গাইবান্ধায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার পাশাপাশি শহীদ পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শহীদ শাকিলুরের স্ত্রী শারমিন, শহীদ আরিফুলের স্ত্রী হালিজা বেগম, শহীদ নাজমুলের মা গোলেবান বেগম, শহীদ জুয়েল রানার মা জমিলা বেগম এবং শহীদ সুজনের স্ত্রী লাইজু বেগম।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গাইবান্ধা জেলা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক মেহেদী হাসান। তিনি বলেন, "আমার বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। প্রকল্পের কাজ এখনো শতভাগ সম্পন্ন হয়নি। প্রশাসন ও শহীদ পরিবারের সঙ্গে সমন্বয় করে বাকি কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।"




_medium_1781511674.jpg)


