শেরপুর জেলা বিএনপির কমিটি নেই সাড়ে চার মাস, নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ
রফিক মজিদ, শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৫ জুন ২০২৬, ০২:২২ দুপুর
_original_1781511674.jpg)
দলীয় কোন্দল ও নানা জটিলতায় দু-দফা আহ্বায়ক কমিটি গঠন করার পরও, শেরপুরের জেলা বিএনপির কমিটি গঠন করা যায়নি।
দুটি আহ্বায়ক কমিটি ১ বছরের ব্যবধানে স্থগিত করার পর জেলা বিএনপি এখন কার্যত অভিভাবকশূন্য, এতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে বাড়ছে ক্ষোভ ও হতাশা, একই সঙ্গে সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
সবশেষ ২০১৮ সালে শেরপুর জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়েছিল। সে সময় মাহমুদুল হক রুবেলকে সভাপতি এবং মোঃ হজরত আলীকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। কিন্তু গ্রুপিং সংক্রান্ত নানা অভিযোগে ২০২৪ সালের নভেম্বরে সেই কমিটি বাতিল করা হয়।
ওই সময় হজরত আলীকে আহ্বায়ক ও অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলামকে সদস্য সচিব করে ৩ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্র। পরবর্তীতে দুই মাসের মাথায় বেশ কিছু অভিযোগে সেই কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়। এরপরে জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ২০২৫ সালের জুনে অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলামকে আহ্বায়ক ও মামুনুর রাশিদ পলাশকে সদস্য সচিব করে আরও একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। মাত্র সাত মাসের মধ্যে অর্থাৎ চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি সেই কমিটিও স্থগিত করা হয়। ফলে প্রায় সাড়ে চার মাস যাবত জেলা বিএনপির কমিটির শূন্য রয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারা দেশে বিএনপির বিজয় ও সরকার গঠন করলেও শেরপুর-১ (সদর) আসনে জামায়াত প্রার্থী সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবিরের সভাপতি হাফেজ রাশেদুল ইসলাম এর কাছে পরাজিত হন বিএনপি প্রার্থী ডাঃ সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা। এর জন্য দলীয় কোন্দল আর নেতৃত্বশূন্যতাকেই দায়ী করেন নেতাকর্মীরা।
জেলা কমিটির বিষয়ে সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম বলেন, দলের কমিটি না থাকলে নেতাকর্মীরা ছন্নছাড়া হয়ে যায়। তাই আমি মনে করি জেলা কমিটি দ্রুত হওয়া উচিত।
এ বিষয়ে কৃষক দলের সভাপতি শফিকুল ইসলাম গোল্ডেন বলেন, শক্তিশালী জেলা কমিটি না থাকলে দলীয় কার্যক্রম স্থবির হয়ে যায়। আর কমিটি থাকলে দলীয় সকল কর্মকান্ড বেগবান হয়।
শেরপুর পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক নছি উদ্দিন নছি বলেন, দলীয় কোন্দল এবং কমিটি না থাকার কারণে বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর পরাজয় হয়। এভাবে চলতে থাকলে আগামীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী বলছেন পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকায়, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সময়মতো কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায় না। বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে দেখা দিচ্ছে জটিলতা, সামগ্রিক সাংগঠনিক কার্যক্রমসহ, ভবিষ্যতে স্থানীয় নির্বাচনগুলোতেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেতাকর্মীদের।
জেলা সদরে বিএনপির বিভিন্ন কেন্দ্রীয় কর্মসূচি সদর উপজেলা বিএনপির আহবায় মোঃ হযরত আলীর নেতৃত্বে একটি অংশ এবং অপর একটি অংশ শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের সাংসদ সাবেক জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদুল হক রুবেল পৃথক ভাবে তার নির্বাচনী এলাকায় আয়োজন করেন। এছাড়া যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অন্যান্য অঙ্গ সংগঠনের দলীয় কর্মসূচি জেলা শহরে পৃথকভাবে পালন করা হয়। সর্বশেষ গত ৬ জুন কেন্দ্রীয় যুবদলের কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়ে যুবদলের তিন গ্রুপের পৃথক মিছিল-সমাবেশ করা হয়।
দলীয় কোন্দলের কথা স্বীকার করে জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব এবং বর্তমান জেলা পরিষদের প্রশাসক মামুনুর রশীদ পলাশ বলছেন, বিগত ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে দলকে এগিয়ে নিয়েছেন যারা, তাদের অনেকেই মূল্যায়নের অপেক্ষায়, অনেক ত্যাগী নেতাকর্মীদের মাঝে বাড়ছে হতাশা।
জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও শেরপুর-৩ আসনের বর্তমান এমপি মাহমুদুল হক রুবেল বলেছেন, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়ায় দ্রুত সময়ের মধ্যে কমিটি গঠন করা হলে দলীয় শৃঙ্খলা ফিরবে।



_medium_1781505615.jpg)



