দেড় কোটি টাকার ভবনের মূল্যায়ন ৪৫ লাখ, ক্ষতিপূরণ নিয়ে ক্ষোভ
মো: মহিউদ্দিন আহাম্মেদ
প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫০ দুপুর

ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে ন্যায্যমূল্য ও স্থাপনার যথাযথ ক্ষতিপূরণ না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের ইটাখোলা এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত ভূমিমালিকদের অভিযোগ, বর্তমান বাজারমূল্য বিবেচনা না করে পুরোনো মৌজামূল্য অনুযায়ী জমির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবন ও দোকানঘরের মূল্যায়ন নিয়েও অসন্তোষ জানিয়েছেন তাঁরা।
এসব অভিযোগের প্রতিবাদ ও জমি-স্থাপনার ন্যায্য ক্ষতিপূরণের দাবিতে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে ইটাখোলা বাসস্টেশন এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে মানববন্ধন করেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন স্থানীয় ইউপি সদস্য হাজী আব্দুল কুদ্দুস, সাবেক ইউপি সদস্য মো. শফিক মিয়া, ক্ষতিগ্রস্ত ভূমিমালিক মাসুম বিল্লাহ, মো. নানু মিয়া ও স্থানীয় বাসিন্দা শাহ আলমসহ অন্যরা।
ইটাখোলা গ্রামের বাসিন্দা মাসুম বিল্লাহ অভিযোগ করেন, তাঁর ১ হাজার ৫৮৪ বর্গফুটের দোতলা ভবনের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ লাখ টাকা। আর ৩ হাজার ৪৬০ বর্গফুটের টিনশেড ভবনের মূল্য ধরা হয়েছে ১৫ লাখ টাকা। তাঁর দাবি, ভবন দুটি বর্তমান বাজারদরে নির্মাণ করতে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয় হবে। ফলে নির্ধারিত মূল্য ও প্রকৃত নির্মাণব্যয়ের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে।
জমির মূল্যায়ন নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মাসুম বিল্লাহ। তাঁর দাবি, ২০২১ সালে ভূমি অধিগ্রহণের নোটিশ দেওয়ার সময় বর্তমান বাজারমূল্য বিবেচনা না করে ২০১৫ সালের সরকার নির্ধারিত মৌজামূল্য অনুসরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ২৩২১ নম্বর দলিলে ইটাখোলা মৌজার জমি প্রতি শতাংশ ৬০ লাখ ৮৫ হাজার টাকা দরে নিবন্ধন করা হয়েছিল। অথচ তাঁর জমির ক্ষতিপূরণের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি শতাংশ মাত্র তিন লাখ টাকা।
মাসুম বিল্লাহ আরও অভিযোগ করেন, জমি জরিপের সময় সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা তাঁর কাছে ২৫ শতাংশ কমিশন দাবি করেছিলেন। সেই টাকা না দেওয়ায় জমি ও স্থাপনার মূল্য নির্ধারণে তাঁর প্রতি বৈষম্য করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
একই এলাকার ভূমিমালিক মো. নানু মিয়া অভিযোগ করেন, তাঁর জমির মূল্য বর্তমান বাজারদরের তুলনায় অনেক কম নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, মহাসড়কের পাশে ভবনের মালিক আব্দুল আউয়ালের দাবি, তাঁর জমির ওপর থাকা দোকানঘরকে জরিপে আবাসিক ভবন হিসেবে দেখানো হয়েছে। এতে স্থাপনাটির মূল্য কম নির্ধারণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহ আলম বলেন, জমি ও স্থাপনার প্রকৃত মূল্য যথাযথভাবে যাচাই না করেই ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে দায়িত্বে অবহেলা বা অনিয়ম হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত হলে যোগাযোগব্যবস্থা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। তাঁরা উন্নয়ন প্রকল্পের বিরোধিতা করছেন না; বরং উন্নয়নের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছেন। জমি ও স্থাপনার যথাযথ মূল্য না পেলে অনেক পরিবার বসতভিটা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হারিয়ে আর্থিক সংকটে পড়বে।
ভুক্তভোগীরা জানান, জমি ও স্থাপনার ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার জন্য তাঁরা জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছেন। তাঁদের দাবি, জমির নিবন্ধিত দলিল, প্রকৃত বাজারমূল্য, স্থাপনার ধরন ও নির্মাণব্যয় যাচাই করে ক্ষতিপূরণ পুনর্নির্ধারণ করতে হবে। পাশাপাশি মূল্যায়নপ্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যুক্ত করা হবে।

_medium_1791985165.jpg)
_medium_1791983236.jpg)




