গাইবান্ধায় প্রতিপক্ষ কর্তৃক স্কুল শিক্ষিকার ৩০ বছরের যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ!!থানায় অভিযোগ দায়ের
আসাদুজ্জামান রুবেল
প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১১:১৪ দুপুর

গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের ঘোড়াবান্ধা মধ্যপাড়া গ্রামের স্কুল শিক্ষিকা সামসি আরা বেগম দুর্ভোগের শিকার।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,প্রতিবেশী আব্দুল কদ্দুস ব্যাপারী গেটের সামনে বাড়ীঘর নিমান করে দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির চলাচলের পথ বন্ধ করে দিয়েছে।বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ হয়েছে, থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, এমনকি আদালতেরও দ্বারস্থ হয়েছেন তারা।কিন্তু প্রায় ৬ বছর পেরিয়ে গেলেও মেলেনি স্থায়ী সমাধানসরেজমিনে ঘোড়াবান্ধা মধ্যপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়,শিক্ষিকা সামসি আরা বেগমের বাড়ির মূল প্রবেশপথে একটি গেট রয়েছে।
গেটের সামনে প্রতিপক্ষ কর্তৃক ঘরবাড়ি নিমান করেছেন।ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, আগে পথটি তুলনামূলক প্রশস্ত ছিল।বর্তমানে পথ সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবে চলাচল করাই কঠিন হয়ে পড়েছে।বিশেষ করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যাওয়া, জরুরি প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে বের হওয়া কিংবা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রেও তাদের নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
যাতায়াত প্রতিবন্ধকতার কারণে এমনিতেই চলাচলে নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তার ওপর বাড়ির প্রবেশপথ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ তাদের জীবনযাত্রাকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে।আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন,আমার একমাত্র ছেলে তাদের ভয়ে বাড়ীতে আসতে পারে না।তিনি জানান অনেক কষ্ট করে আমি বাড়ি তৈরি করেছি।
বাড়িতে যাতায়াতের সুবিধার জন্য জমিও কিনেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সেই চলাচলের পথ নিয়ে বিরোধ চলছে।স্থানীয়ভাবে সালিশে কয়েকবার পথ খুলে দেওয়া হলেও পরবর্তীতে আবারও তা বন্ধ বা সংকুচিত করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তার।স্কুল শিক্ষিকার অভিযোগ ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে গিয়ে তিনি ভয়ভীতি,হুমকি এমনকি মারধরেরও শিকার হয়েছেন।কয়েক মাস আগেও তাকে মারধর ও লাঞ্ছিত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।তিনি বলেন,প্রায় ৬ বছর ধরে এই সমস্যা নিয়ে ঘুরছেন।
বিভিন্ন সময় স্থানীয়ভাবে সালিশ হয়েছে, থানায় অভিযোগ করেছেন। কিন্তু কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। নিজের বাড়িতে যাওয়ার পথটুকুর জন্য এভাবে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হবে।এটি তার কাছে অত্যন্ত কষ্টের।স্কুল শিক্ষিকার দাবি,বাড়িতে যাতায়াতের পথটি তারা দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করে আসছেন।
ওই পথের জায়গা দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।চলাচলের পথ ফিরে পেতে স্থানীয়ভাবেএকাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।পরে প্রতিকার চেয়ে থানাসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন বলে জানান।কিন্তু দীর্ঘ সময়েও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় হতাশা বাড়ছে তাদের।
এ বিষয়ে মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব প্রধান বলেন,বিষয়টি নিয়ে দুই থেকে তিনবার সালিশ বৈঠক হয়েছে।অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুল কদ্দুস ব্যাপারীর বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।অভিযোগের বিষয়ে পলাশবাড়ী থানা অফিসার ইনর্চাজ সারোয়ার আলম জানান,ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।



_medium_1788066688.jpg)

_medium_1788066028.jpg)

