সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম

ঝুঁকি নিয়ে নদীপাড়ে বসবাস, ভাঙনকবলিত মানুষের কান্না শোনার যেন কেউ নেই


  আসাদুজ্জামান রুবেল

প্রকাশ :  ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩১ বিকাল

মাথার ওপর খোলা আকাশ, আর পায়ের নিচে প্রতিনিয়ত ধেয়ে আসা নদী। ভাঙনের আতঙ্কে প্রতি রাতেই ঘুম ভাঙে নদীপাড়ের অসহায় মানুষের। বসতভিটা হারানোর শঙ্কায় দিন কাটলেও তাদের আর্তনাদ যেন শোনার কেউ নেই।

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের মুংলিশপুর গ্রামের কুমারপাড়ায় নদীভাঙন ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের রূপ নিয়েছে। একের পর এক বসতবাড়ি ও ফসলি জমি গ্রাস করার পর এবার গ্রামের প্রধান সড়কও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, কুমারপাড়া এলাকার বিস্তীর্ণ অংশ নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। ভাঙনের তীব্রতায় অনেক পরিবার তাদের শেষ সম্বল বসতভিটা হারিয়ে গৃহহীন হয়ে পড়েছে। কেউ খোলা আকাশের নিচে, আবার কেউ অন্যের জমিতে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নিয়েছেন। রাস্তাঘাট বিলীন হওয়ায় পুরো এলাকা কার্যত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের চলাচলও এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

ভিটেমাটি হারানো কুমারপাড়ার এক বাসিন্দা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "নদী আমাগো সব কাড়িয়া নিছে। ঘরবাড়ি শেষ, রাস্তাও শেষ। এহন আমরা কই যামু, কী খামু? আমাগো এই কান্না দেখার মতো কেউ নাই।"

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ এলাকায় নদীভাঙন চললেও তা প্রতিরোধে কার্যকর কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের উদ্যোগও চোখে পড়েনি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি বলে দাবি তাদের।

ভাঙনকবলিত মানুষের দাবি, সাময়িক ত্রাণ নয়, তারা নদীভাঙন রোধে একটি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ চান। পাশাপাশি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়া সড়ক দ্রুত পুনর্নির্মাণ করে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মুংলিশপুর গ্রামের বাসিন্দারা।

স্থানীয় সচেতন মহলের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে অচিরেই কুমারপাড়ার আরও অনেক পরিবার ভিটেমাটি হারাবে এবং গ্রামের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়বে।

এ বিষয়ে পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, বন্যা ও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত