গ্যাস বিস্ফোরণে প্রাণ গেল একই পরিবারের তিনজনের, পূর্বধলায় পাশাপাশি দাফন
নাহিদ আলম, স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : ১৬ জুন ২০২৬, ০৫:৩৫ বিকাল

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার মদনপুরে গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া নেত্রকোণার পূর্বধলার একই পরিবারের তিন সদস্যকে নিজ গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবারের ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরী এখনও রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
নিহতরা হলেন, পূর্বধলা উপজেলার জারিয়া ইউনিয়নের দলদলা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মান্নান (৫০), তার স্ত্রী সুলতানা বেগম (৩৫) এবং তাদের ছেলে মো. সায়েম (১৯)।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে দলদলা গ্রামে হৃদয়বিদারক পরিবেশে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে সোমবার রাতে তিনজনের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের আহাজারি ও কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। মঙ্গলবার সকাল ৯টায় জানাজার নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে বাবা, মা ও ছেলেকে পাশাপাশি দাফন করা হয়।
পরিবারের স্বজনরা জানান, জীবিকার তাগিদে আব্দুল মান্নান পরিবার নিয়ে নারায়ণগঞ্জে বসবাস করতেন এবং সবজি বিক্রি করে সংসার চালাতেন। সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখছিলেন তিনি। কিন্তু একটি দুর্ঘটনা মুহূর্তেই সেই স্বপ্নকে ধুলিস্যাৎ করে দেয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ জুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রথম মারা যান সুলতানা বেগম। পরে সোমবার (১৫ জুন) ভোরে মারা যান আব্দুল মান্নান। একই দিন সকাল ১০টার দিকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে তাদের ছেলে সায়েম।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান জানান, সুলতানা বেগমের শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ, সায়েমের ৭৭ শতাংশ এবং আব্দুল মান্নানের ৩৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। অতিরিক্ত দগ্ধ হওয়ার কারণেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে, পরিবারের ১৩ বছর বয়সী মেয়ে মিমের শরীরের প্রায় ৪১ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)-এ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া দগ্ধ প্রতিবেশী শিশু হযরত আলীও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
জানা গেছে, গত ১১ জুন ভোরে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের চাঁনপুর এলাকায় আক্তার হোসেন মিয়ার ভাড়া বাসায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রতিদিনের মতো সকালে রান্নার কাজে রান্নাঘরে যান গৃহবধূ সুলতানা বেগম। তবে তিনি বুঝতে পারেননি যে সারারাত এলপিজি সিলিন্ডার থেকে গ্যাস লিক হয়ে ঘরের ভেতর জমে ছিল। দরজা-জানালা বন্ধ থাকায় পুরো কক্ষ গ্যাসে ভরে যায়। পরে আগুন জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং মুহূর্তের মধ্যে আগুনে দগ্ধ হন পরিবারের সদস্যরা।
ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও ধামগড় পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা দ্রুত দগ্ধদের উদ্ধার করে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একে একে প্রাণ হারান পরিবারের তিন সদস্য।
একই পরিবারের তিনজনের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে দলদলা গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শেষবারের মতো তাদের দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন হাজারো মানুষ।







