সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শিরোনাম

পূর্বধলায় ‘সমতায় তারুণ্য’ প্রকল্পে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত


  নাহিদ আলম, স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ :  ০৭ জুন ২০২৬, ১১:৩৭ রাত

নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় তরুণ প্রজন্মের ক্ষমতায়ন, জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠা, ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘সমতায় তারুণ্য: ইয়ুথ ফর ইক্যুয়ালিটি’ প্রকল্পের আওতায় দুই দিনব্যাপী “ইনক্লুসিভ ইন্টারঅ্যাক্টিভ ক্যাপাসিটি বিল্ডিং ডিসকাশন” অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত ৬ ও ৭ জুন পূর্বধলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে একটিভিটি ফর রিফরমেশন অব বেসিক নীডস্-আরবান। কর্মসূচিটি পরিচালিত হয় জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর যৌথ উদ্যোগে এবং ঢাকাস্থ নেদারল্যান্ডস দূতাবাস-এর আর্থিক সহযোগিতায় পরিচালিত ‘সমতায় তারুণ্য: ইয়ুথ ফর ইক্যুয়ালিটি’ প্রকল্পের আওতায়।

দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনে প্রতিদিন ৩০ জন করে মোট ৬০ জন তরুণ-তরুণী অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, যুব প্রতিনিধি ও সামাজিক কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। উন্মুক্ত ও অংশগ্রহণমূলক এ সেশনে তারা জেন্ডার সমতা, নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার, ডিজিটাল নাগরিকত্ব এবং সামাজিক পরিবর্তনে তরুণদের ভূমিকা নিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা, মতামত ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।অনুষ্ঠানের প্রথম দিনের সেশন পরিচালনা করেন আরবানের প্রোগ্রাম অফিসার আজাদ ইমরান শরীফ এবং ইয়ুথ ভলান্টিয়ার সামিয়া জাহান তিশা। দ্বিতীয় দিনের সেশন পরিচালনা করেন আরবানের প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর আবুল আরশাদ, ইয়ুথ ভলান্টিয়ার সামিয়া জাহান তিশা ও হৃদয় হোসাইন।

দুই দিনের আলোচনায় জেন্ডার স্টেরিওটাইপ, ডিজিটাল নিরাপত্তা, মিডিয়া লিটারেসি, লবিং ও অ্যাডভোকেসিসহ সমসাময়িক নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে বিস্তৃত মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা সমাজে প্রচলিত লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য দূর করে সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা, অনলাইন নিরাপত্তা জোরদার, তথ্য যাচাইয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক পরিবর্তনে তরুণদের সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা দলভিত্তিক আলোচনা, উপস্থাপনা এবং মতবিনিময়ের মাধ্যমে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরেন। তাদের সুপারিশের মধ্যে ছিল- নারী ও পুরুষের সমান মতামতের অধিকার নিশ্চিত করা, সকল ক্ষেত্রে নারীর নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সাইবার বুলিং প্রতিরোধে নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, স্থানীয় সমস্যা সমাধানে লবিং কার্যক্রম জোরদার করা, অ্যাডভোকেসির মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নারীর প্রতি সকল ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ।

এছাড়া নারী-পুরুষের সমান অংশগ্রহণ, পারস্পরিক সম্মান এবং বৈচিত্র্যকে মূল্যায়নের মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন, নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আয়োজকরা জানান, এ ধরনের উদ্যোগ তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশ, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতেও যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত