প্রকৃতি ও জলবায়ু সুরক্ষার প্রত্যয়ে কলমাকান্দায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন
ফখরুল আলম খসরু, কলমাকান্দা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৪ জুন ২০২৬, ০৫:৩০ বিকাল

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার চন্দ্রডিঙ্গা বাঁধ রক্ষা কমিটি ও চন্দ্রডিঙ্গা যুব সংগঠনের উদ্যোগে এবং বারসিকের সহযোগিতায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হয়েছে। এ বছরের বিশ্ব পরিবেশ দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল “প্রকৃতির থেকে অনুপ্রাণিত হও, জলবায়ুর জন্য ও আমাদের ভবিষ্যতের জন্য”। এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার চন্দ্রডিঙ্গা এলাকায় নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি, লেখক ও শিংকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বকুল মাস্টার।
দিবসটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কৃষক-কৃষাণীসহ প্রায় ৬০ জন অংশগ্রহণকারী প্রকৃতির সান্নিধ্যে গিয়ে প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং পরিবেশ ও প্রকৃতিকে সুরক্ষিত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তারা প্রতিপাদ্যের আলোকে প্রকৃতির কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এ সময় ছড়ার বাঁধ সুরক্ষায় পরিবেশবান্ধব বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয় এবং অংশগ্রহণকারীদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
চন্দ্রডিঙ্গা বাঁধ রক্ষা কমিটির সভাপতি সুনীল ম্রং-এর সভাপতিত্বে এবং বারসিকের প্রোগ্রাম অফিসার মো. আলমগীরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা, জলবায়ু ন্যায্যতা এবং স্থানীয় জনগণের করণীয় বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
বারসিকের উপজেলা সমন্বয়কারী গুঞ্জন রেমা দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, “এ বছরের প্রতিপাদ্য আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, প্রকৃতিই টেকসই জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থান, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশবান্ধব জীবনচর্চার মাধ্যমেই আমরা জলবায়ু সংকট মোকাবিলা করতে পারি। প্রকৃতিকে রক্ষা করা মানেই আমাদের ভবিষ্যৎকে রক্ষা করা।”
স্থানীয় নারী নেত্রী বেনুকা ম্রং বলেন, “প্রকৃতি আমাদের জীবন, সংস্কৃতি ও জীবিকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নারী-পুরুষ সকলের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। প্রকৃতিকে ভালোবাসা ও সংরক্ষণের মধ্য দিয়েই আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর পৃথিবী রেখে যাওয়া সম্ভব।”
আদর্শ কৃষক পরিমল রেমা বলেন, “প্রকৃতি ও কৃষি একে অপরের পরিপূরক। দেশীয় বীজ সংরক্ষণ, পরিবেশবান্ধব কৃষি চর্চা এবং বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে আমরা যেমন খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারি, তেমনি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবও কমাতে পারি।”
প্রধান অতিথি বকুল মাস্টার তাঁর বক্তব্যে বলেন, “প্রকৃতি আমাদের সবচেয়ে বড় শিক্ষক। প্রকৃতির কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের জীবন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা সাজাতে হবে। পরিবেশ ধ্বংস করে কখনো টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই বৃক্ষরোপণ, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং পরিবেশবান্ধব আচরণকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে।”
সভাপতির বক্তব্যে সুনীল ম্রং বলেন, “চন্দ্রডিঙ্গা এলাকার পরিবেশ, ছড়া ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। প্রকৃতিকে রক্ষা করা মানেই আমাদের ভবিষ্যৎকে রক্ষা করা। তাই সবাইকে পরিবেশ সংরক্ষণে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।”







