ঝিনাইগাতীতে বাড়ছে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার, মরিচ চাষে ইতিবাচক ফলাফলের সম্ভাবনা
মনিরুজ্জামান মনির, ঝিনাইগাতী প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৪ মে ২০২৬, ০৩:০১ দুপুর

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার হাতিবান্ধা ইউনিয়নের তিনানি গ্রামে মরিচ চাষে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। স্থানীয় কৃষক আমিনুল ইসলাম এ বছর ১০ শতাংশ জমিতে মালচিং পেপার ব্যবহার করে মরিচ চাষ করেছেন।
কৃষকদের মতে, মালচিং পেপার ব্যবহারের ফলে জমিতে আগাছার পরিমাণ কমে যাচ্ছে এবং মাটির আর্দ্রতা দীর্ঘ সময় ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে। এতে গাছের বৃদ্ধি স্বাভাবিক ও তুলনামূলকভাবে ভালো হচ্ছে বলে তারা জানান।

সম্প্রতি কৃষি সেবা কর্মকর্তা কেবিডি. আশিকুর হাসান আকাশ মাঠ পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি মাটির স্বাস্থ্য উন্নত করতে, গাছের বৃদ্ধি বাড়াতে এবং রোগের প্রকোপ কমাতে এসিআই ফার্টিলাইজারের বাম্পার ট্রাইকো পাউডার, কোরিয়ান বায়ো এবং বায়োফার্টি ব্যবহারের পরামর্শ প্রদান করেন।
তিনি বলেন,মাটির স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং ফসলের সুষম বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সঠিক পুষ্টি ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো প্রয়োজনীয় জৈব ও উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর পণ্য ব্যবহার করলে ফসলের উৎপাদন ও গুণগত মান দুটোই উন্নত হয়।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, আগের তুলনায় আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করলে শ্রম কম লাগে এবং পরিচর্যা সহজ হয়। এতে সময় ও খরচ দুটোই কিছুটা কমানো সম্ভব হচ্ছে।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এই ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার কৃষকদের উৎপাদন ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। সঠিক কৃষি পদ্ধতি অনুসরণ করা গেলে মরিচসহ অন্যান্য ফসলের উৎপাদনও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ বিষয়ে ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন বলেন, এখন যেহেতু বর্ষা মৌসুম, জমিতে প্রচুর পরিমাণ আগাছা হবে। মালচিং পেপার দিয়ে যদি আবাদ করা হয়, তাহলে আগাছা নিয়ন্ত্রণে থাকবে। পাশাপাশি লেবার খরচও অনেক সাশ্রয় হবে, গাছ ভালো থাকবে। মালচিং পেপারে আলো পড়লে আলোর রিফ্লেকশনের মাধ্যমে পোকামাকড় অনেক কম থাকে। এতে কৃষকের লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।



