ধানের দামে পতন! কৃষকের আশায় গুড়েবালি
মো: জায়েজুল ইসলাম
প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩৫ দুপুর

নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার জারিয়া ইউনিয়নের নাটেরকোনা গ্রামের কৃষক কুদাদুজ্জামান বোরো মৌসুমের অনেক কষ্ট করে ধান কেটে শুকিয়ে সযতনে গোলায় ভরে রাখছিলেন একটু বেশি দামে বিক্রির আশায়। কিন্তু সেই আশা এখন তার গুড়েবালি।
গত কয়েকদিনের ব্যবধানে বাজারে ধানের দাম অনেক কমে গেছে। প্রতি মন ধানে প্রায় ৩০০ টাকার চেয়ে বেশি কমে যাওয়ায় তিনি এখন চোখে অন্ধকার দেখছেন। কারণ লাভের বদলে এখন তাকে লোকসান গুনতে হবে।
এমন অবস্থা উপজেলার সকল কৃষকদের, যারা একটু বেশি দামে বিক্রির আশায় ধান গোলায় মজুদ করে রেখেছিলেন। হোগলা ইউনিয়নের চল্লিশনীর গ্রামের কৃষক মোঃ শহিদুল ইসলাম, ধলা গ্রামের কৃষক কাজল মিয়া, জারিয়া গ্রামের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক, আব্দুল করিম বলেন, বাজারে ধান নিয়ে গেলে ব্যবসায়ীরা ধান কিনতে চান না। এক মন ধান ফলাতে যেখানে তাদের খরচ হয়েছে প্রায় ৮শ টাকা, সেখানে ৪২ কেজিতে একমন হিসেবে বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ৯শ টাকা দরে। ধান কাটার ভরা মৌসুমে ভেজা ধানের দাম আর এখন শুকনা ধানের দাম সমান হয়ে গেছে। এই অবস্থায় কৃষক তাদের হিসাব মেলাতে পারছেন না।
কিছুদিন আগে ধানের দাম ছিল প্রতিমন ১২শ টাকার উপরে। বর্তমানে ৩শ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ৯শ টাকায়। এতে কৃষকরা হতাশ হয়ে পড়ছেন। তারা বলছেন, গত বছর এ সময় ধানের দাম ছিল ১৩শ থেকে ১৫শ পর্যন্ত। এবছর একই সময়ে নেমে এসেছে ৯শ টাকায়। কেউ কেউ দাবি করছেন, বাজার নিয়ন্ত্রণকারীরা সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য সিন্ডিকেট করে বাজারে ধানের দাম কমিয়ে দিচ্ছেন। আবার স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে ধান ও চাল সরবরাহ থাকায় ধানের চাহিদা কম। ফলে দামও নেমে গেছে।
উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ বাবুল মিয়া জানান, এ বছর সরকার নির্ধারিত এক কেজি ধানের দাম ছিল ৩৬ টাকা, আর এককেজি চালের দাম ছিল ৪৯ টাকা। গত মাসের শেষ তারিখে গোদামে বোরোধান চাল সংগ্রহ শেষ হয়েছে।
সরকার নির্ধারিত রেট অনুযায়ী স্থানীয় বাজার মাপে ৪২ কেজি মণে একমন ধানের দাম হওয়ার কথা ১৫১২ টাকা। কিন্তু ব্যবসায়ীরা ধান কিনছেন ৯০০ টাকা দরে। সেই হিসেবে এককেজি ধানের দাম পড়ে ২২ টাকার মত। তবে চিকন জাতের ধানের দাম একটু বেশি।
ভুক্তভোগী কৃষক সবুজ সরকার বলেন, ধান রোপনের সময় শ্রমিক মূল্য বেশি দিতে হয়, সার কেনার সময় সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার কিনতে হয়, আবার কাটার সময় শ্রমিক মূল্য বেশি দিতে হয়, আমরা সবকিছু সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে কৃষি পণ্য কিনে ধান ফলালেও আমাদের উৎপাদিত ধান এখন সরকার নির্ধারিত রেটের অনেক কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এ বিষয়টি যেন দেখার কেউ নেই।
পূর্বধলা বাজারের ধান ব্যবসায়ী হাজী আব্দুল মালেক এন্ড সন্স এর স্বত্বাধিকারী আব্দুল মোমেন জুয়েল বলেন, মোকামে ধানের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় ব্যাপারীরা বেশি দামে ধান কিনতে চান না। ফলে আমরা স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বেশি দাম দিতে পারিনা।







