শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩
শিরোনাম

প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে বিছানায় বাঁধা  বৃদ্ধা বেহুলার সংসার


  রফিক মজিদ, শেরপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ :  ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৫ বিকাল

বেহুলা বেওয়া। বয়স ৮৩ বছর। শহরের চাপাতলী মহল্লায় ছোট বোন মনোয়ারার (৭০) উঠানের এক কোনায় একটি ঝুপড়ি ঘরে প্রতিবন্ধী ছেলে শুকুর আলীকে (৬৫) নিয়ে মা-ছেলে দিনরাত বিছানায় পড়ে থাকেন।

বেহুলার বিয়ের পর তিন পুত্র সন্তান জন্ম দিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নেন স্বামী হযরত আলী। অর্থাৎ প্রায় সাত বছর আগে বেহুলা বিধবা হয়। ওই সময় তিনি প্রতিবন্ধী মেঝো ছেলেসহ অন্যকে নিয়ে বিভিন্ন বাসা বাড়িতে কাজ করে সংসার চালাতেনা। কিন্তু দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তার অবস্থা আরো খারাপের দিকে যায়। সে কারণে শুরু করে ভিক্ষাবৃত্তি। এর মধ্যে বড় ছেলে চান মিয়া ও ছোট ছেলে রহমত বিয়ে করে ঢাকায় পাড়ি জমায়। সেখানে তারা দিনমজুর ও রিকশা চালানোর কাজ করছেন। তারা তাদের সংসার নিয়ে দৈন্যতা ও ব্যস্ততার কারণে তালে ভরতে শেরপুর আসেন। এ সময় মা বেহুলাকে এক নজর দেখেই চলে যান। 

কিন্তু বেহুলা গত চার বছর আগেও কোন রকমে চলাফেরা করে ভিক্ষাবৃত্তি করে আসছিল। কিন্তু বয়সের ভারে ইতিমধ্যে শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধী হয়ে শয্যাসয়ী হয়ে পড়ে। এদিকে মেজো ছেলে শুকুর আলী জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী হওয়ায় সে বাসায় বসে থাকতেন সব সময়। সম্প্রতি তারও শরীরে বাসা বেঁধেছে নানা রোগ বালাই। যে কারণে তাদের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মা ছেলে দু’জনই শয্যাশায়ী হয়ে মানবতার জীবনযাপন করছে। 

এদিকে মা বেহুলা ও ছেলে শুকুর আলীর দায়িত্বভার নিজের ছেলেরা কেউ না নিলেও বেহুলার ছোট বোন মনোয়ারা তাদের সার্বিক খোঁজ খবর ও খাওয়া দাওয়া দায়িত্ব নিয়েছেন। কিছু মনোয়ারার জন্য তার শেষ নেই। দিনমজুরের কাজ করা এক ছেলের উপর সংসারের ভার। তাদেরই নুন আনতে পান্তা ফুরোয়। তারপরও যথা সম্ভব চেষ্টা করে যাচ্ছেন শয্যাসয়ী বেহুলা শুকুর আলীর জন্য। 

প্রতিবন্ধী শুকুর আলী এবং মা বেহুলা দু’জনই প্রতিবন্ধী ও বয়স্ক ভাতা পেলেও ওই টাকা তাদের মুখের আহারই জোটে না। অন্যের মুখাপেক্ষী হয়ে চলছে তাদের আহার। 

বেহুলার ছোট বোন মনোয়ারা বলেন, প্রায় ৬০ বছর আগে আমার বোন জামাই মারা যাওয়ার পর এবাড়ি ওবাড়ি কাজ করে এবং শেষ জীবনে ভিক্ষে করে চলতেন। প্রতিবন্ধী ছেলেটার জন্য সে আর দ্বিতীয় বিয়ে করেনি। অন্য দুই ছেলে ঢাকায় গিয়ে রিকশা চালিয়ে তারাও অতি কষ্টে সংসার চালাচ্ছে। তাই তারা শেরপুর এলে এক নজর দেখে আবারও চলে যায়। শেষ বয়সে এসে ছেলের সাথে আমার বোন বেহুলাও বিছানায় পড়ে আছে। আমার একমাত্র ছেলের আয় দিয়ে আর চলতে পারছি না। তার ওপর দুই জনের পায়খানা-প্রস্রাব পরিষ্কার, গোসল করানো ও খাওয়ানোর কাজ করতে হয় আমার ও আমার ছেলেকে। আমরা এখন আর পারছি না। তবে তাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা করা গেলে হয়তো কিছুটা সুস্থ হতো। তাই সরকারের কাছে আকুতি জানাই চিকিৎসার জন্য যেন কিছু সহায়তা করা হয়। এছাড়া যে ঘরটায় থাকে সেটাও আমার জমির উপর করা। সহায় সম্বল বলে কিছু নেই তাদের। আমার বড় বোন এবং অসহায় বলে তাকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত