শেরপুরে ঘুষের টাকা ফেরত পেলেও চাকরি ফেরত পেলেন না সুইপার মুক্তা হরিজন
রফিক মজিদ, শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৬:২৬ বিকাল

শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে মাস্টার রোলে সুইপার পদে ৪ লাখ টাকা ঘুসের বিনিময়ে চাকুরী নেওয়ার পর চার মাসের মাথায় চাকরি চলে যাওয়ায় ওই ঘুসের টাকা ফেরত চায় ভুক্তভোগী সুইপার মুক্তা হরিজন।
এ বিষয়ে ৬ আগস্ট শেরপুর জেলা প্রশাসক বরাবর ঘুসের টাকা ফেরত না পেয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন মুক্তা হরিজন। এই লিখিত অভিযোগ পত্র ডিসির টেবিলে যাওয়ার আগেই খবর পেয়ে নড়ে চড়ে বসে শ্রীবরদী ইউএনওর সিএ ইনসান। রাতের মধ্যেই তাকে ডেকে নিয়ে ঘুসের টাকা ফেরত দিয়ে দেন এবং তার কাছ থেকে একটি অভিযোগ প্রত্যাহারের লিখিত নেন।
জেলা প্রশাসকের কাছে মুক্তা হরিজন এর লিখিত অভিযোগে বলা হয়, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে শ্রীবরদী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার সিএ ইনসানের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাংলোতে মাস্টার রোলে সুইপার পদে চার লাখ টাকার বিনিময়ে চাকরিতে যোগদান করেন। ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ঠিকঠাক মতো কাজ করছিলেন মুক্তা হরিজন। কিন্তু গত জুন মাসে হঠাৎ করেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজে গাফিলতির অভিযোগ এনে মুক্তা হরিজনকে চাকুরি থেকে অব্যাহতি দেয়। এরপর মুক্তা হরিজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সিএ ইনসানের সাথে দীর্ঘদিন যোগাযোগ করেন ঘুসের টাকা ফেরত নিতে। কিন্তু প্রথম অবস্থায় দেই দিচ্ছে করে টাকা দিতে গড়িমসি করায় বাধ্য হয়ে ৬ আগস্ট মুক্তা হরিজন জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
এ বিষয়ে অভিযোগকারী মুক্তা হরিজন বলেন, সুইপার পদে শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ইউএনওর সিএ ইনসান এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের ড্রাইভার রফিকের মাধ্যমে প্রথমে পাঁচ লাখ টাকা ঘুস দাবি করলেও আমি এত টাকা দিতে পারবো না বলার পর ৪ লাখ টাকায় রাজি হয়। এতে আমার স্বর্ণের গয়না ও বিভিন্ন আসবাবপত্র বিক্রি করে ইনসানের হাতে টাকা দেওয়া হয় এবং ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ইউএনও স্যারের বাসায় সুইপার এর কাজ শুরু করি। কিন্তু ইউএনও স্যার আমাকে বাড়ির সকল কাজকর্ম করান এতেও আমার অভিযোগ নেই। কিন্তু আমাকে প্রতি মাসে চার দিনের ছুটি চাইলে তিনি দিতেন না।
এর প্রতিবাদ করায় আমাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেন ইউএনও স্যার। পরে আমি ইনসানের কাছে ঘুসের টাকা ফেরত চাই। সে আজ-কাল করতে করতে দীর্ঘদিন থেকে আমাকে ঘুরাতে থাকলে অবশেষে বাধ্য হয়ে ৬ আগস্ট জেলা প্রশাসক স্যারের কাছে লিখিত আবেদন দেই। এতে তারা জরুরিভাবে আমাকে ডেকে নিয়ে টাকা ফেরত দেন এবং অভিযোগ প্রত্যাহারের লিখিত নেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সিএ ইনসান বলেন, আমাদের কি চাকরি দেয়ার কোন ক্ষমতা আছে। চাকুরী বা ঘুসের বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। তবে আমার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিলেও পরবর্তীতে ভুল বুঝে অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়েছে মুক্তা হরিজন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনীষা আহমেদ বলেন, ঘুসের বিনিময়ে চাকরির বিষয়টি আমার জানা নাই। আমার বাংলোতে সুইপার পদে মাস্টার রোলে মুক্তা হরিজন নামে একজনকে অস্থায়ী চাকরি দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি ঠিক মত কাজ না করায় তাকে বাদ দেয়া হয়েছে।






_medium_1786278472.jpg)
