রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শিরোনাম

এক উন্মাদের আজ জন্মদিন


  সফিউল্লাহ সুমন

প্রকাশ :  ২৪ মে ২০২৬, ০৯:১২ রাত

“আমি উম্মাদ, আমি উম্মাদ
আমি চিনেছি আমারে, আজিকে আমার খুলিয়া গিয়াছে সব বাঁধ”

যুগে যুগে, স্থানে স্থানে কিছু উন্মাদের জন্ম হয়। প্রতিদিন, প্রতিমূহুর্তে শত শত উম্মাদের জন্ম হয়। কিন্তু তারা যে উন্মাদ, তা তারা নিজেরাই উপলব্ধি করতে পারে না। কারণ- এই সমাজে, এই ধরণের উন্মাদের সংখ্যাই বেশি। কিন্তু আমি আজ যে উন্মাদকে নিয়ে আলোচনা করতে বসেছি, এমন উন্মাদ শত শত বছরে হঠাৎ কোথাও জন্মায়। যেখানে তারা জন্মায়, সেই সমাজ সৌভাগ্যবান হয়—যদিও তারা নিজেদের ভাগ্যের সারথিকে চিনতে পারে না। স্বাগত জানাতে পারে না তাদের উচ্ছন্নে যাওয়া জীবনে। তারা এই ক্ষণজন্মা উন্মাদের আবির্ভাবে ভ্রু কুচকায়, কখনো বা চোখ রাঙায়, কেউ বা অস্বস্তিতে ভুগে। এই আগন্তুককে চিনে শুধু একজন; যার আধিপত্যের সাম্রাজ্য ভেঙে ঘুরিয়ে দিতে এই উন্মাদের আগমন। সে ঠিকই এই উম্মাদের আগমনের কারণ বুঝতে পারে এবং বুঝতে পারে বলেই সে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়। তাই তো ভ্রান্ত পথের সেসব সারথিরা এই অন্ধ সমাজকে বুঝাতে চায়- “এ উম্মাদ! এ উম্মাদ! এর থেকে সাবধান! এ তোমাদের প্রাসাদকে (চোরা বালির খেলাঘর) ভেঙে চুরমার করে দিবে। একে এখনই সামলাও।”

তখন সে বলে- "আমি কবি, বনের পাখির মতো স্বভাব আমার গান করার। কারো ভালো লাগিলেও গাই, না লাগিলেও গাহিয়া যাই।" 

শুনে ওরা হাসে; টিপ্পনি কাটে। 

কিন্তু যখন সে বলে-
“যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল, আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না, 
অত্যাচারীর খড়গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না
বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত, আমি সেই দিন হবো শান্ত।”

তখন অত্যাচারীদের প্রাসাদ কেঁপে উঠে। তারা দেখে- উন্মাদের দল একটু একটু ভারী হতে শুরু করেছে। তখন বিভীষিকারা আরো ভীত সন্ত্রস্ত হয় উঠে। তারা এই উন্মাদের দলকে থামাতে চায়, টুটি চেপে ধরতে চায় উন্মাদের; নিক্ষেপ করে কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্টে। কিন্তু এই উন্মাদ তো কোন সীমায় আবদ্ধ থাকার নয়, সে তো কালের সীমাকেও অতিক্রম করে। কাজেই তাকে তো চার দেয়ালে বন্দী রাখা সম্ভব নয়। তারাও পারে নি। না পেরেছে চার দেয়ালে আবদ্ধ রাখতে, না পেরেছে কালের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ করতে। যুগের পর যুগ, কালের পর কাল পাখির মতো গান শুনিয়ে যাচ্ছে; এ ডাল থেকে ও ডালে। যে-সে গান নয়- মুক্তির গান, সাম্যের গান, মানবতার গান। 

প্রেমের কবি, দ্রোহের কবি, মানবতার কবি, আমাদের প্রিয় বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের আজ ১২৭ তম জন্ম বার্ষিকী। তিনি ১৮৯৯ সালের ২৪মে পশ্চিম বঙ্গের আসানসোলের চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহন করেছিলেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদের পাশে শায়িত আছেন। 

কাজী নজরুলকে নিয়ে আলোচনা করার দুঃসাহস আমার নেই। সে যোগ্যতাও নেই। কিন্তু তাঁর লেখা আমাকে ছুঁয়ে যায়। কতটা ছুঁয়ে যায় বা কতটা আমাকে কী করে, সেটা আমি প্রকাশ করতে পারব না। কারণ- আমার ততটা ভাষা শক্তি নেই। শুধু এই টুকু বলব- তাঁকে আমরা পড়তে পারি নি। পড়লেও আত্ম-উপলব্ধি কতটুকু হয়েছে এটা নিয়ে আমি যথেষ্ট সন্দিহান। বড় বড় পন্ডিত ব্যক্তিরা হয়তো এটা নিয়ে বিস্তর আলোচনা করবেন। 

আমি সেবার যতোটা হতাশ হয়েছি- এমন হতাশ আমি কোনদিন হই নি। শুধু হতাশা নয়- আমার হৃদয়ে রীতিমতো রক্তক্ষরণ হয়েছে। আমি গিয়েছিলাম ত্রিশালে- নজরুলের জন্ম জয়ন্তিতে, জীবনে প্রথম বার। সেখানে গিয়ে আমার চোখ তো ছানাভরা। অনেক রকম স্টল আছে। বইয়ের স্টলগুলোতে বলতে গেলে নজরুলের লেখা কিংবা নজরুলকে নিয়ে লেখা তেমন কোন বই-ই নেই। আমি আরও মর্মাহত হলাম- যখন আমি “জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়” প্রাঙ্গণে গেলাম। কোন স্টলেই কাজী নজরুলের কোন বই নেই। ভুল করে কেউ দু-একটা বই রেখেছিল কিনা আমি নিশ্চিত নই।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত