সুনামগঞ্জে নির্বাচনী খেলায় জামায়াত-বিএনপি এখন সেমিফাইনাল থেকে ফাইনালে
মোঃ ইসলাম উদ্দিন, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:২৩ বিকাল

হাওরবেষ্টিত জেলা সুনামগঞ্জের ৫টি সংসদীয় আসনেই বইছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের উত্তাল হাওয়া। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর রাজপথের আন্দোলন আর কৌশলী অবস্থানের ‘সেমিফাইনাল’ পেরিয়ে দলগুলো এখন নির্বাচনী খেলায় ‘ফাইনালে’। বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের মধ্যে একদিকে যেমন রাজনৈতিক সৌজন্য দেখা যাচ্ছে, অন্যদিকে মাঠ দখলের লড়াইয়ে কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ।
সুনামগঞ্জের ৫টি আসনের বর্তমান চালচিত্র আলোচনার শীর্ষে
সুনামগঞ্জ-১ (ধর্মপাশা-তাহিরপুর-জামালগঞ্জ-মধ্যনগর): এই আসনে লড়াইটা বেশ ত্রিমুখী। বিএনপির প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুল হাওর অঞ্চলকে পর্যটন ও শিল্প হাবে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তবে তাকে কড়া চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর হেভিওয়েট প্রার্থী মাওলানা তোফায়েল আহমেদ খান। খনিজ সম্পদ রক্ষা ও দারিদ্র্য বিমোচনের স্লোগান নিয়ে জামায়াতের শক্ত অবস্থান এখানে ভোটের হিসাব ওলটপালট করে দিতে পারে।
সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা): সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের এই সাবেক দুর্গে এবার আলোচনার কেন্দ্রে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির। তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী নাছির উদ্দিন চৌধুরীকে অভিনন্দন জানিয়ে এক অনন্য রাজনৈতিক সম্প্রীতির নজির স্থাপন করেছেন। তবে ভেতরে ভেতরে দুই পক্ষই জয়ের জন্য মরিয়া। দিরাই-শাল্লার সাধারণ ভোটাররা এবার 'ব্যক্তি ইমেজ' না কি 'দলীয় প্রতীক' বেছে নেবেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ): সুনামগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী কয়ছর আহমদ বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও দলের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন তার গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। জামায়াতের প্রার্থী মো. ইয়াসীন খানও নিঃশব্দে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। প্রবাসী অধ্যুষিত এই আসনে প্রার্থীদের ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন লন্ডনী প্রবাসীরা।
সুনামগঞ্জ-৪ (সদর ও বিশ্বম্ভরপুর): সুনামগঞ্জ সদরের এই আসনটি পুনরুদ্ধারে মরিয়া বিএনপি। ২০ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা এই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল ইতোমধ্যে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে 'সেফ সুনামগঞ্জ' গড়ার অঙ্গীকার করেছেন। তবে এখানেও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন ও জামায়াতের জেলা নায়েবে আমির আইনজীবী শামস্ উদ্দীনের উপস্থিতি লড়াইকে কঠিন করে তুলেছে।
সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার): শিল্পাঞ্চল খ্যাত এই আসনে বিএনপির প্রার্থী কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনের বিপরীতে মাঠে আছেন জামায়াতের অধ্যক্ষ আবু তাহির মোহাম্মদ আব্দুস সালাম। শিক্ষা ও কৃষি উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সালাম মাদানী তরুণ ভোটারদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছেন। ছাতক-দোয়ারার শ্রমিক ভোট ব্যাংক কার দিকে ঝুঁকবে, তার ওপরই নির্ভর করছে ফাইনালের ফলাফল।
পর্যবেক্ষকদের মতে, সুনামগঞ্জে এবার বিএনপি ও জামায়াত অধিকাংশ আসনেই পৃথকভাবে লড়াই করছে। আন্দোলনের মাঠে তারা সহযোগী থাকলেও ভোটের মাঠে তারা এখন একে অপরের প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী।






