সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শিরোনাম

কাংশা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন মধ্যবর্তী স্থানে নির্মাণের দাবিতে ঝিনাইগাতীতে মানববন্ধন


  মনিরুজ্জামান মনির, ঝিনাইগাতী প্রতিনিধি

প্রকাশ :  ১৪ জুন ২০২৬, ০৫:১০ বিকাল

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার ১নং কাংশা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন মধ্যবর্তী স্থানে নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১৪ জুন) সকাল ১০টায় ঝিনাইগাতী উপজেলা চত্বরে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে আগত হাজারো মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। এতে নারী-পুরুষ, শিক্ষার্থী, কৃষক ও ব্যবসায়ীসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা দীর্ঘদিনের ভোগান্তি, অবহেলা এবং সম্ভাব্য বৈষম্যের বিষয় তুলে ধরে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন এমন স্থানে নির্মাণ করা উচিত, যা ভৌগোলিকভাবে মধ্যেবর্তী স্থানে অবস্থিত এবং সকল মানুষের জন্য সহজে যাতায়াতযোগ্য। বর্তমান প্রস্তাবিত স্থানটি দূরবর্তী হওয়ায় ইউনিয়নের একটি বড় অংশের মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

বক্তারা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন কেবল একটি দাপ্তরিক স্থাপনা নয়, এটি সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার ও সেবার কেন্দ্র। যদি এটি এমন স্থানে নির্মাণ করা হয় যেখানে সকলের সমানভাবে পৌঁছানো সম্ভব নয়, তবে তা জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে। তারা জোর দিয়ে বলেন, জনগণের একটাই দাবি, প্রান্ত নয়, কেন্দ্রেই ভবন চাই, সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

কাংশা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আনারুল্লাহ আনোয়ার অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় জনগণের মতামত উপেক্ষা করে একতরফাভাবে ভবন নির্মাণের প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। জনগণের মতামতকে গুরুত্ব না দিলে ভবিষ্যতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং জনঅসন্তোষ আরও বাড়বে।

এ সময় অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন প্রদর্শন করেন। প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল,জনগণের দাবি মানতে হবে, প্রান্ত নয়, কেন্দ্র চাই,মধ্যস্থানে ইউনিয়ন ভবন নির্মাণ করতে হবে, সবার জন্য সমান সেবা নিশ্চিত করো ইত্যাদি স্লোগান, যা কর্মসূচিকে আরও প্রাণবন্ত ও প্রতিবাদমুখর করে তোলে।

মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন খলিলুর রহমান, মাহফুজুর রহমান, মাসুদ রহমান, আরিফিন সোহাগ, এনামুল কবির মানিক এবং লুতফর রহমান লাজুসহ অন্যান্যরা। তারা বলেন, অতীতে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কেন্দ্রস্থলকে গুরুত্ব দেওয়া হলেও এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ক্ষেত্রে তা উপেক্ষা করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণকারীরাও একই দাবি জানিয়ে আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

বক্তারা আরও জানান, এই মানববন্ধন শুধুমাত্র একটি কর্মসূচি নয়, বরং এটি ইউনিয়নের মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের সূচনা। তারা শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানালেও দ্রুত তা বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেন।

মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ এবং ইউনিয়ন পরিষদ ভবন মধ্যবর্তী স্থানে নির্মাণের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত ঘোষণার দাবি জানানো হয়।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত