পূর্বধলায় পশুর হাটের ইজারা জট কাটল, ২৮ হাটের ডাক সম্পন্ন
নাহিদ আলম, স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : ২৪ মে ২০২৬, ১০:০৬ রাত

কয়েক দিন ধরে চলা জল্পনা-কল্পনা, রাজনৈতিক আলোচনা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘হাসিল ফ্রি’ গুঞ্জনের মধ্যেই অবশেষে নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাটের ইজারা জট কাটল।
উপজেলার প্রস্তাবিত ৫১টি অস্থায়ী পশুর হাটের মধ্যে ২৮টির প্রকাশ্য ডাক (নিলাম) সম্পন্ন করেছে উপজেলা প্রশাসন।
রবিবার (২৪ মে) বিকেলে পূর্বধলা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাসনীম জাহান স্বাক্ষরিত জরুরি প্রজ্ঞাপনে এসব হাট বসানোর অনুমতি দেওয়া হয়।

প্রশাসনের অনুমোদিত তালিকা অনুযায়ী, উপজেলার সবচেয়ে বেশি মূল্যে ইজারা হয়েছে নারায়ণডহর বাজার। এ হাটটি ১ লাখ ৯৬ হাজার টাকায় ইজারা পান মো. মানিক মিয়া। এছাড়া মৌদাম ঈদগাহ মাঠ ও স্কুলসংলগ্ন হাট ৫০ হাজার টাকায় পেয়েছেন মো. আব্দুর রেজ্জাক। আগিয়া বাজার ৫১ হাজার ৫০০ টাকায় ইজারা পান মো. বাচ্চু মিয়া এবং ফাতিলপুর বাজার ৬১ হাজার টাকায় ইজারা পেয়েছেন মো. ফেরদৌস মিয়া।
এ ছাড়া জারিয়া বাজার ৩০ হাজার টাকায় ইজারা পেয়েছেন চান মিয়া এবং খলিশাপুর খানপাড়া জামে মসজিদসংলগ্ন হাট ৩০ হাজার ৯১০ টাকায় ইজারা পেয়েছেন মো. মজিবুর রহমান। অন্যদিকে উপজেলার সবচেয়ে কম মূল্যে ইজারা হয়েছে বাঘবেড় বাজার, যার দর উঠেছে মাত্র ২ হাজার ৫০০ টাকা।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে অস্থায়ী পশুর হাট পরিচালনায় ইজারাদারদের জন্য আটটি শর্ত জুড়ে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা খেলার মাঠে হাট বসানো যাবে না, মহাসড়ক ও রেললাইনের পাশে পশুর হাট বসানো নিষিদ্ধ, বিদ্যমান সায়রাতভুক্ত হাটের ক্ষতি করা যাবে না এবং প্রতিদিন হাট শেষে বর্জ্য অপসারণ নিশ্চিত করতে হবে।
এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে সংশ্লিষ্ট ইজারাদারকে দায় নিতে হবে বলে জানানো হয়েছে। টোল আদায়ে ওয়াশিল রসিদ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি হরমোন বা স্টেরয়েড ব্যবহার করা পশু বিক্রি ঠেকাতে প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তাদের সহযোগিতা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, জনদুর্ভোগ এড়ানো এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার স্বার্থে নির্ধারিত শর্ত মেনে হাট পরিচালনা করতে হবে। কোনো শর্ত লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট হাট বন্ধসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







